Showing posts with label ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন. Show all posts
Showing posts with label ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন. Show all posts

গুপ্তহত্যা বন্ধে তড়িৎ রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ জরুরী

,

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী দেশের প্রতিটি নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। সাম্প্রতিক সময়ে সাদা পোষাকধারী কিছু লোক দিনে বা রাতে যে কোন মানুষকে ঘর বা রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে পরে ডোবায়, খালে ও বিলে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় লাশ পাওয়া যাচ্ছে। এ সংস্কৃতি একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের জন্য কেবল বেদনাদায়ক নয়, লজ্জাজনকও বটে। পুলিশের আইজি গুপ্তহত্যার কথা স্বীকার করে বলেন, এর সাথে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যগণ সম্পৃক্ত নয়। বিষয়টি পুলিশ নিবিড়ভাবে তদন্ত করে দেখছে (কালের কণ্ঠ, ১৮/১২/১১)।
ইন্সপেক্টর জেনারেলের এ বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে বলতে চাই যে, যে কোন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করার সময় ওই বাহিনীর ইউনিফর্ম থাকা বাঞ্চনীয়। হরতালের সময় ইউনিফর্মধারী আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাশে অস্ত্র হাতে সাদা পোষাকে কিছু লোক দেখা যায়। আমাদের প্রশ্ন তারা কারা? তারা কী আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য? না দলীয় ক্যাডার? বিষয়টি পরিস্কার হওয়া দরকার। রাজপথে প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে দৌড়াতে দেখলে সাধারণ মানুষ আতংকিত ও শংকিত না হয়ে পারে না। মানবাধিকার কমিশনের আরো জোরালো কর্মপ্রয়াস প্রয়োজন। তাদের নীরব ভূমিকায় সাধারণ মানুষ উৎকণ্ঠিত ও হতাশ।
যে ব্যক্তি যতই ভয়ংকর অপরাধী ও সন্ত্রাসী হোক না কেন আইনের আওতায় তাকে এনে শাস্তির বিধান করা রাষ্ট্রের (প্রশাসন-বিচার বিভাগ) দায়িত্ব। সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার এটাই পূর্বশর্ত। গুম, গুপ্তহত্যা, ক্রসফায়ার, এনকাউন্টার ও কারা হেফাজতে কোন নাগরিকের মৃত্যু সুস্থ সমাজ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের কাম্য হতে পারে না। বিচার বহির্র্ভূত হত্যাকান্ড অব্যাহত থাকলে আইনের শাসন ও ন্যায় বিচার অকার্যকর হয়ে পড়ে। প্রতিটি নাগরিকের ন্যায় বিচার পাওয়ার অধিকার আছে অন্যথায় মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত আমাদের সব স্বপ্নস্বাধ ব্যর্থ হয়ে যাবে। যথাযথ আদালতের পরওয়ানা (Warrant of Arrest) ছাড়া কোন নাগরিককে গ্রেফতার করা আইনের শাসন ও মানবাধিকার পরিপন্থী। ৫৪ ধারা ও বিশেষ ক্ষমতা আইন বাতিলের আমরা দাবী জানাই। আফসোসের কথা হচ্ছে বিগত ৪০ বছরে পালাক্রমে যারাই রাস্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্টিত হয়েছেন তারাই বিরোধী পক্ষকে দমন-নিপীড়নের হাতিয়ার হিসেবে এ ধারাগুলো ব্যবহার করেন।
এখনতো আর ব্রিটিশ বেনিয়া অথবা পাকিস্তানী শোষকগোষ্ঠী নেই, তার পরও কেন নিজদেশের জনগণের সাথে এই নির্মম আচরণ। একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাস্ট্রে স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি থাকা চাই। বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড বন্ধে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের তড়িৎ ও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি।

Partner site : online news / celebrities /  celebrity image
website design by Web School.
Read more

পবিত্র আশুরার শিক্ষা ও তাত্পর্য

,
muharram_fasting.jpgমহররম মাসের দশম তারিখ ইতিহাসে ‘আশুরা’ নামে অভিহিত। প্রাচীনকালের নানা জনগোষ্ঠীর কাছে আশুরা ছিল পবিত্র ও মর্যাদাপূর্ণ। ইহুদিদের কাছে আশুরা জাতীয় মুক্তি দিবস হিসেবে পরিচিত। আশুরার মর্যাদা ইসলামেও স্বীকৃত। মুসলমানরা রোজা পালনের মাধ্যমে আশুরার মাহাত্ম্য স্মরণ করে থাকেন। আশুরার দিনে পৃথিবীতে বহু চাঞ্চল্যকর ঘটনা সংঘটিত হয়।
আসমান-জমিন, আরশ-কুরসি ও আদিপিতা আদম (আ.)-এর সৃষ্টি, ধরাপৃষ্ঠে প্রথম বারিবর্ষণ, হজরত নুহ (আ.)-এর জাহাজ মহাপ্লাবন শেষে জুদি পাহাড়ে অবতরণ, ফেরাউনের নির্যাতন থেকে হজরত মুসা (আ.) কর্তৃক ইহুদিদের উদ্ধার, দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে হজরত আয়ুব (আ.)-এর সুস্থতা লাভ, মত্স্য-উদর থেকে হজরত ইউনুস (আ.)-এর নির্গমন, হজরত সুলায়মান (আ.)-কে পৃথিবীর একচ্ছত্র রাজত্ব প্রদান, নমরুদের অগ্নিকুণ্ড থেকে হজরত ইবরাহীম (আ.)-এর নিষ্কৃতি, হজরত ইয়াকুব (আ.)-এর চক্ষুজ্যোতি পুনঃপ্রাপ্তি, কূপ থেকে হজরত ইউসূফ (আ.)-কে উদ্ধার, হজরত ইদরিস (আ.) ও হজরত ঈসা (আ.)-কে আসমানে উত্তোলন, কারবালায় হজরত হোসাইন (রা.)-এর শাহাদাতসহ বিপুল ঐতিহাসিক ঘটনার নীরব সাক্ষী আশুরা (মুফতি আশফাক আলম কাসেমী, ফাযায়েলে মহররম, পৃ. ৩৫-৩৬)।
মদিনায় হিজরতের পর রাসুলুল্লাহ (সা.) লক্ষ্য করেন, ইহুদিরা আশুরা দিবসে রোজা রাখছে। তিনি তাদের জিজ্ঞেস করলেন, এটা কোন দিন যাতে তোমরা রোজা রেখেছ? তারা বলল, এটা এমন এক মহান দিবস। এদিন আল্লাহ তায়ালা হজরত মুসা (আ.) ও তার সম্প্রদায়কে মুক্তি প্রদান করেছিলেন, ফেরাউনকে তার সম্প্রদায়সহ ডুবিয়ে মেরেছিলেন। তাই হজরত মুসা (আ.) কৃতজ্ঞতাস্বরূপ এদিন রোজা রাখেন। এজন্য আমরাও রোজা রাখি। এ কথা শুনে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমাদের চেয়ে আমরা মুসা (আ.)-এর অধিকতর ঘনিষ্ঠ ও নিকটবর্তী। অতঃপর রাসুলুল্লাহ (সা.) রোজা রাখেন এবং অন্যদেরও রোজা রাখার নির্দেশ দেন।’ (সহিহ মুসলিম, ১/৩৫৯)।
হজরত আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘রমজানের পর সব রোজার (নফল) মধ্যে আশুরার রোজা সর্বশ্রেষ্ঠ’ (জামে তিরমিজি ১/১৫৬)। পবিত্র আশুরার দিন রোজা রাখার ফজিলত সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, ‘আমি আশা করি যে ব্যক্তি আশুরা দিবসে রোজা রাখবে তার এক বছরের গুনাহের কাফ্ফারা (ক্ষমা) হয়ে যাবে।’ (মুসলিম, ১/৩৬৭)। আশুরার দিন রোজা রাখলে ইহুদিদের সঙ্গে সাদৃশ্য হয়ে যাওয়ায় রাসুলুল্লাহ (সা.) তার আগের দিন বা পরের দিন আরেকটি রোজা রাখার পরামর্শ দেন (মুসনাদ আহমদ)।
৬৮০ খ্রিস্টাব্দের ১০ অক্টোবর (৬০ হিজরির ১০ মহররম) কারবালা প্রান্তরে মহানবীর দৌহিত্র হজরত হোসাইন (রা.)-এর মর্মান্তিক শাহাদাত আশুরাকে তাত্পর্যমণ্ডিত করে। খিলাফত ব্যবস্থার পুনর্জীবন ছিল হজরত হোসাইন (রা.)-এর সংগ্রামের মূল লক্ষ্য। মুসলিম জাহানের বিপুল মানুষের সমর্থন ছিল তাঁর পক্ষে। হজরত হোসাইন (রা.)-এর গৃহীত পদক্ষেপ ছিল বীরত্বপূর্ণ। মদিনার পরিবর্তে দামেস্কে রাজধানী স্থানান্তর, উমাইয়াদের অনৈসলামিক কার্যকলাপ, কুফাবাসীদের বিশ্বাসঘাতকতা সর্বোপরি ইহুদি আবদুল্লাহ ইব্ন সাবার ষড়যন্ত্র কারবালা হত্যাকাণ্ডের জন্ম দেয়। ইয়াজিদের বিরুদ্ধে কুফাবাসীর সাহায্যের প্রতিশ্রুতিতে আশ্বস্ত হয়ে হজরত হোসাইন (রা.) স্ত্রী, ছেলে, বোন ও ঘনিষ্ঠ ২০০ অনুচরসহ ৬৮০ খ্রিস্টাব্দে কুফার উদ্দেশে রওনা হন। ফোরাত নদীর তীরবর্তী কারবালায় পৌঁছলে কুফার গভর্নর ওবায়দুল্লাহ ইব্ন জিয়াদ তাঁকে বাধা প্রদান করে। রক্তপাত বন্ধের উদ্দেশ্যে ইমাম হোসাইন (রা.) তিনটি প্রস্তাব পেশ করেন। প্রথমত, তাঁকে মদিনায় ফিরে যেতে দেয়া হোক। না হলে, দ্বিতীয়ত, তুর্কি সীমান্তের দুর্গে অবস্থান করতে দেয়া হোক। তৃতীয়ত, অথবা ইয়াজিদের সঙ্গে আলোচনার জন্য দামেস্কে পাঠানো হোক। কিন্তু ওবায়দুল্লাহ ইব্ন জিয়াদ নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করে তার হাতে আনুগত্যের শপথ নিতে আদেশ দেন। হজরত হোসাইন (রা.) ঘৃণাভরে তার এ আদেশ প্রত্যাখ্যান করেন। ঐতিহাসিক উইলিয়াম মুইর ইমাম হোসাইন (রা.)-এর প্রস্তাব সম্পর্কে বলেন, ‘এ অনুরোধ যদি মেনে নেয়া হতো, উমাইয়াদের জন্য তা মঙ্গল বয়ে আনত।’ (Well had it been for the Umayyad house, if the prayer had been agreed to.) ।
অবশেষে ওবায়দুল্লাহ ইব্ন জিয়াদের চার হাজার সৈন্যের একটি বাহিনী ইমাম হোসাইন (রা.)-কে অবরুদ্ধ করে ফেলে এবং ফোরাত নদীতে যাতায়াতের পথ বন্ধ করে দেয়। হজরত হোসাইন (রা.)-এর শিবিরে পানির হাহাকার ওঠে। তিনি ইয়াজিদ বাহিনীর উদ্দেশে প্রদত্ত এক ভাষণে বলেন, আমি যুদ্ধ করতে আসিনি। এমনকি নিছক ক্ষমতা দখল আমার উদ্দেশ্য নয়। খিলাফতের ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার আমার কাম্য। ১০ মহররম ইয়াজিদ বাহিনী তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। সংঘটিত এ অসম যুদ্ধে একমাত্র ছেলে ইমাম জায়নুল আবেদীন ছাড়া ৭০ পুরুষ শহীদ হন। ইমাম হোসাইন (রা.) মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করে যান। অবশেষে শাহাদাত বরণ করেন। ইমাম হোসাইন (রা.)-এর ছিন্ন মস্তক বর্ষাফলকে বিদ্ধ করে দামেস্কে পাঠানো হয়। ইয়াজিদ ভীত ও শঙ্কিত হয়ে ছিন্ন মস্তক প্রত্যার্পণ করলে কারবালায় পবিত্র দেহসহ তাঁকে সমাধিস্থ করা হয়। ইতিহাসবিদ গিবন বলেন, ‘সেই দূরবর্তী যুগে ও পরিবেশে হজরত হোসাইনের মৃত্যুর শোকাবহ দৃশ্য কঠিনতম পাঠকের হৃদয়ে সমবেদনার সঞ্চার করবে’(In a distant age and climate the tragic scene of the death of Husayn will awaken the sympathy of the coldest reader.) ।
ইতিহাস সাক্ষী ইমাম হোসাইন (রা.)-কে কারবালা প্রান্তরে যারা নির্মমভাবে হত্যা করেছিল মাত্র ৫০ বছরের ব্যবধানে তাদের প্রত্যেকের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে করুণ পন্থায় (আল্লামা মুফতি মুহাম্মদ শফী (রহ.)।
কারবালার যুদ্ধে জয়লাভ ইয়াজিদ তথা উমাইয়া বংশের জন্য ছিল পরাজয়ের নামান্তর। এ বিয়োগান্তক ঘটনা বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের জন্ম দেয়। পারস্যে জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটায় তা ইসলামী রাষ্ট্রের জন্য সমূহ বিপর্যয় ডেকে আনে। কারবালার শোকাবহ হত্যাকাণ্ড মুসলিম বিশ্বের সর্বত্র শিহরন জাগিয়ে তোলে। ইমাম হোসাইন (রা.) অন্যায় ও অসাধুতার সঙ্গে আপস করেননি। তাঁর এ শাহাদাত গৌরবোজ্জ্বল আদর্শরূপে পরিগণিত হয়। তাই আশুরা মুসলমানদের আত্মোপলব্ধিকে জাগ্রত করে।
স্মর্তব্য, আশুরাকে কেন্দ্র করে আমাদের সমাজে এমন কিছু কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়, যা শরিয়ত-সমর্থিত নয়। আলোকসজ্জা, আতশবাজি, হালুয়া-রুটি বিতরণ, দুটি কবুতর জবাই, ‘সত্তর দানাভাত’ পাকানো, কালো কাপড় পরিধান, জারিগান, বক্ষে-পিঠে ছুরিকাঘাতের সঙ্গে আশুরার কোনো সম্পর্ক নেই। বরং এসব বিদআতি কর্মকাণ্ড আশুরার ঐতিহাসিক তাত্পর্যকে ম্লান করে দেয়।

Partner site : online news / celebrities /  celebrity image
website design by Web School.
Read more

পার্বত্য এলাকায় এনজিওর নামে ধর্মান্তরকরণ

,

chtMap.jpg
বাংলাদেশের পার্বত্য এলাকাকে ঘিরে এনজিও এবং আন্তর্জাতিক খ্রিষ্টান লবি বিজাতীয় কৃষ্টি ও ধর্ম প্রচারের লক্ষ্যে দীর্ঘ দিন তৎপরতা চালিয়ে আসছে। চিকিৎসা ও সমাজসেবার আড়ালে তারা দারিদ্র্যপীড়িত জনগোষ্ঠীকে নিজেদের দিকে আকৃষ্ট করার প্রয়াস পাচ্ছে। পার্বত্য এলাকায় প্রায় ৪৫টি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জাতিগোষ্ঠীর অধিবাস। ২০ লাখ আদিবাসী রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতা, চরম দারিদ্র্য, ক্ষুধা, মহামারী, অপুষ্টি ও স্যানিটেশন সমস্যা তাদের নিত্যসঙ্গী।
বিদেশী অর্থে পরিপুষ্ট বহু এনজিও পার্বত্য জেলায় সক্রিয়। এদের বেশির ভাগই পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে ধর্মান্তরিত করছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২০ বছরে সেখানে ১২ হাজার উপজাতীয় পরিবার খ্রিষ্টান হয়েছে। তিন পার্বত্য জেলায় ১৯৪টি গির্জা এ ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা রাখছে। খাগড়াছড়ি জেলায় ৭৩টি গির্জা। ১৯৯২ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত এ জেলায় চার হাজার ৩১টি পরিবার খ্রিষ্টান হয়ে গেছে। বান্দরবান জেলায় গির্জা ১১৭টি। একই সময়ে খ্রিষ্টান হয়েছে ছয় হাজার ৪৮০টি উপজাতীয় পরিবার। রাঙ্গামাটিতে চারটি গির্জা খ্রিষ্টান বানিয়েছে এক হাজার ৬৯০টি পরিবারকে। পাহাড়ি যেসব জনগোষ্ঠীর লোকসংখ্যা কম, তাদের প্রায় শতভাগ খ্রিষ্টান হয়ে গেছে অনেক আগেই।
পাহাড়িদের সংস্কৃতি অটুট রাখার জন্য কুম্ভীরাশ্রু বিসর্জনকারী পশ্চিমাগোষ্ঠীর মদদে ধর্মান্তরকরণে উপজাতীয়দের সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ বিপন্ন। সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধন শিথিল হয়ে যাচ্ছে। এভাবে স্পর্শকাতর এলাকায় ডেমোগ্রাফির নাটকীয় পরিবর্তন মেনে নেয়া যায় না। ব্রিটিশ রাজশক্তি পাহাড়ি ও বাঙালিদের মধ্যে বিভাজন রেখা টেনে দিয়েছিল, যাতে পরস্পরের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়। মিশনারিরা চন্দ্রঘোনা, মালুমঘাট, ময়মনসিংহ, রংপুর ও রাজশাহীসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে হাসপাতাল ও মাতৃসদন প্রতিষ্ঠা করে চিকিৎসা চালিয়ে আসছেন খ্রিষ্ট ধর্ম ও সংস্কৃতির প্রসারের লক্ষ্যে। বাংলাদেশে কর্মতৎপর এনজিওর সংখ্যা ৩০ হাজার। বহুজাতিক কোম্পানির আর্থ-রাজনৈতিক স্বার্থে এবং অসহায়, নিঃস্ব, নিরক্ষর মানুষকে সেবা করার নামে ইউরোপীয় সংস্কৃতি ও খ্রিষ্ট ধর্মে দীক্ষিত করার তৎপরতায় বহু এনজিও জড়িত। এদের বাজেটের ৯০ শতাংশ অর্থ খ্রিষ্টানদের বা খ্রিষ্টান হওয়ার সম্ভাবনাময় ব্যক্তিদের স্বার্থে এবং নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদেশী কনসালটেন্টের পেছনে ব্যয় হয়।
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার সাজেক ইউনিয়নটি সীমান্তবর্তী ও দুর্গম যা বাংলাদেশের কোনো কোনো জেলার সমান। নৈসর্গিক সৌন্দর্য মণ্ডিত এই উপত্যকায় পৌঁছতে খাগড়াছড়ি বা রাঙ্গামাটি শহর থেকে দু’দিন লাগে। এই ইউনিয়নের ২০টি গ্রামে খেয়াং, বম, পাংখু, লুসাই উপজাতির ১০ হাজার মানুষের বাস। ২০ বছর আগেও এখানে খ্রিষ্ট ধর্মের নামগন্ধ ছিল না। উপজাতীয়দের ভাষা, সংস্কৃতি সবই ছিল। আজ কিছুই নেই। শুধু ইংরেজিতে কথা বলাই নয়; সেখানকার অধিবাসীরা গিটার বাজিয়ে ইংরেজি গান গায়; মেয়েরা পরে প্যান্ট-শার্ট স্কার্ট। তাদের দেখে মনে হয় যেন বাংলার বুকে ‘একখণ্ড ইউরোপ’। কারণ এখন তারা প্রায় সবাই খ্রিষ্টান। দীর্ঘ দিন ধরে এই এলাকায় খ্রিষ্টানেরা অনেক কৌশল ও টাকা ব্যয়ে ধর্মান্তরিত করে চলেছে। পাংখু উপজাতি পুরোপুরি খ্রিষ্টান হয়ে গেছে; বদলে গেছে তাদের ভাষা; এমনকি হরফও ইংরেজি। এনজিওর নাম ধারণ করে খ্রিষ্টানেরা এই দুর্গম এলাকায় হাসপাতাল, বিনোদন কেন্দ্র, গির্জা ইত্যাদি গড়ে তুলেছে।
বাংলাদেশের উত্তর, দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের পার্বত্য এলাকায় গড়ে উঠেছে সুদৃশ্য গির্জা। বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও ময়মনসিংহের অরণ্যে বসবাসরত চাকমা, মারমা, মুরুং, টিপরা, খাসিয়া, মনিপুরী, লুসাই, গারো প্রভৃতি উপজাতির মধ্যে খ্রিষ্ট সংস্কৃতি ও ধর্মের অনুপ্রবেশ জীবনধারায় এনেছে আমূল পরিবর্তন। ‘প্রতিটি মানুষের জন্য একটি বাইবেল এবং প্রত্যেক জনগোষ্ঠীর জন্য একটি গির্জা’। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে তারা লক্ষ্য পানে ছুটে চলেছে। ১৯৩৯ সালে বাংলাদেশে খ্রিষ্টান ছিল ৫০ হাজার। ১৯৯২ সালে সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫০ লাখে; আগামী বছর ২০১২ সালে দাঁড়াবে এক কোটিতে। এনজিও ওয়ার্ল্ড ভিশনের অব্যাহত প্রচেষ্টার ফলে ১৯৯১ সালে একমাত্র গারো পাহাড় এলাকায় ১৬ হাজার ভোটার তালিকাভুক্ত হয় এবং খ্রিষ্টান জনশক্তি দাঁড়ায় ৫০ হাজারে।
বৃহত্তর সিলেটে ৩০ হাজার খাসিয়ার ৮০-৯০ শতাংশই খ্রিষ্টান। প্রায় প্রতিটি পুঞ্জিতে (গ্রাম) গির্জা আছে। যাজকেরা বিচার-আচারেরও দায়িত্ব পালন করেন। খ্রিষ্টান হওয়ার ফলে খাসিয়াদের আর্থসামাজিক কাঠামোই বদলে গেছে। খাসিয়া ভাষা সীমান্তের ওপারে রোমান হরফে লেখা হচ্ছে। মিশনারিদের প্রচেষ্টায় সাঁওতাল লিপির বর্ণমালাও রোমান হরফে পরিবর্তিত হয়ে যাচ্ছে।
উত্তরাঞ্চলের ধর্মান্তরের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। মুসলমান, হিন্দু, আর সাঁওতালদের মধ্যে খ্রিষ্টান হওয়ার ঘটনা ঘটছে অহরহ। বৃহত্তর রংপুর ও বৃহত্তর দিনাজপুরের আটটি জেলায় গজিয়ে উঠেছে গির্জা। ওই সব গির্জায় গত পাঁচ বছরে ১০ থেকে ১২ হাজার মানুষ খ্রিষ্টান হয়েছে। বেকারত্ব আর দারিদ্র্যকে পুঁজি করে তারা ধর্মান্তরের টোপ দিচ্ছে মানুষকে। শিশুদেরও খ্রিষ্টান করার অপতৎপরতা চালাচ্ছেন পাদ্রিরা। তারা আটটি জেলায় কমপক্ষে ৩০-৪০টি নার্সারি স্কুল খুলেছেন। ক্লাসরুমে যিশুর প্রতিকৃতিসহ খ্রিষ্টীয় সংস্কৃতির ছবি ও অনুষঙ্গ রাখা হয়। এগুলো দেখিয়ে শিশুদের খ্রিষ্টান ধর্ম ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জ্ঞান দেয়া হয়। আগামী ১০-১২ বছরে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে লক্ষাধিক দরিদ্র ও বেকার যুবক খ্রিষ্টান ধর্মে দীক্ষিত হতে পারে বলে আশঙ্কা হচ্ছে।
সাত সমুদ্র তের নদীর ওপার থেকে ওরা এসে যদি আদিবাসীদের মধ্যে খ্রিষ্টান ধর্ম ও সংস্কৃতি প্রচার করতে পারে, তাহলে এত কাছের হয়েও আমরা মুসলমানেরা কেন ইসলাম ধর্ম ও সংস্কৃতি প্রচার না করে বসে থাকব? সাহায্যের, সহানুভূতির, সেবার হাত পাহাড়ি ভাইদের প্রতি আমরা কেন সমপ্রসারণ করতে পারলাম না? এর মাশুল এক দিন দিতেই হবে। প্রায় ২০ বছর আগে পটিয়া আল জামিআ আল ইসলামিয়ার সাবেক প্রধান পরিচালক মাওলানা মুহাম্মদ ইউনুছ রহ: কাপ্তাইয়ের অদূরে সুখবিলাস ও বান্দরবান সদরে দু’টি ১০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক দাতব্য হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করে পার্বত্য জনগোষ্ঠীকে চিকিৎসা প্রদানের সূচনা করেছিলেন। তা যথেষ্ট ফল দিয়েছে। তার দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে আর কেউ এগিয়ে আসেননি।
‘সেভেন সিস্টা’র নামে খ্যাত মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, হিমাচল, অরুণাচল প্রভৃতি ভারতীয় রাজ্যের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী এখন ধর্মান্তরিত খ্রিষ্টান। ওই সব পাহাড়ি অঞ্চলসংলগ্ন বাংলাদেশের পার্বত্য এলাকায়ও উল্লেখযোগ্য হারে খ্রিষ্টানের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ঘটনাপ্রবাহ ইঙ্গিত দিচ্ছে, খ্রিষ্টান অধ্যুষিত ইউরোপীয় দাতাগোষ্ঠী ও এনজিওরা পার্বত্য চট্টগ্রামকে টার্গেট করে এগোচ্ছে। প্রায় দু’বছর স্থগিত থাকার পর ইউএনডিপি এই বছর রাঙ্গামাটি, বিলাইছড়ি, বান্দরবান ও থানচিতে ২০ লাখ মার্কিন ডলারের প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা উন্নয়নের নামে দেদার বৈদেশিক অর্থের দ্বারা নব দীক্ষিত খ্রিষ্টান জনগোষ্ঠীকে পুনর্বাসনের কাজে লিপ্ত। কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট প্লানের অধীনে তারা খ্রিষ্টান যুবকদের উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা প্রভৃতি দেশে প্রেরণ করে থাকে। এভাবে পার্বত্য অঞ্চলে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে সচ্ছল এবং রাজনৈতিক দিক দিয়ে বিপজ্জনক একটি জনগোষ্ঠী গড়ে উঠবে। সীমান্তের দুই পাশে এভাবে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের আশঙ্কা অমূলক নয়। এনজিওরা দাতাগোষ্ঠীর গোপন পরিকল্পনাই বাস্তবায়ন করে থাকে। বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতীয় পাহাড়ি এলাকায় বহুদিন ধরে এনজিওরা আদিবাসীদের ধর্মান্তরের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে সুকৌশলে। ৮১৮টি এনজিওকে ভারতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় ‘কালো তালিকা’ভুক্ত করে রাজ্যগুলোর জেলা প্রশাসককে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে। এই এনজিওদের মধ্যে ত্রিপুরার ৬৯, মনিপুরের ১৯৭, আসামের ১৫১, নাগাল্যান্ডের ৭৮ ও মেঘালয়ের ৩২৩টি।
এবার খ্রিষ্টান অধ্যুষিত দক্ষিণ সুদান স্বীকৃতি পেয়েছে পূর্ব তিমুরের পথ ধরে। কারণ জাতিসঙ্ঘসহ আন্তর্জাতিক ফোরামে রয়েছে ওদের ‘স্ট্রং লবি’। ২০০২ সালের মে মাসে আন্তর্জাতিক মুরব্বিদের সহায়তায় ইন্দোনেশিয়ার ২৭তম প্রদেশ পূর্ব তিমুর স্বাধীনতা লাভ করেছে। কিন্তু কাশ্মির, মিন্দানাও, আরাকান, আচেহ, চেচনিয়া, দাঘেস্তান, ফিলিস্তিন ও জিনজিয়াং অঞ্চলের মুক্তিকামী জনতা আদৌ জাতিসঙ্ঘের অধীনে স্বাধীনতা পাবে কি না, সন্দেহ। কারণ এসব এলাকা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ।
১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দে ইন্ডিয়া কোম্পানির বোর্ড অব ডিরেক্টর্স -এর সভায় গৃহীত প্রস্তাব ওদের উদ্দেশ্য বুঝতে সহায়ক : ‘প্রকৃতি ভারতীয় উপমহাদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলটি এ জন্য ব্রিটেনের কাছে সোপর্দ করেছে, যাতে এতদঞ্চলের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত আমাদের বিজয় পতাকা উড্ডীন হয়। এতদঞ্চলকে খ্রিষ্টান রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য প্রত্যেকের আপ্রাণ চেষ্টা করা উচিত।’ (দৈনিক আজাদ, ঢাকা, ৩০ জ্যৈষ্ঠ, ১৩৭৪ বাংলা)।
মুসলিম রাষ্ট্রগুলোতে মিশনারি প্রেরক সমিতির সভাপতি কিস জুয়াইমর বলেন, ‘খ্রিষ্টানদের বড় উদ্দেশ্য হলো, যেসব ছাত্র আমাদের স্কুল-কলেজ থেকে শিক্ষা সমাপন করে বের হচ্ছে, তারা নিশ্চিতরূপে ইসলাম থেকে বের হয়ে যাওয়া, যদিও তা আনুষ্ঠানিক নয়। অর্থাৎ নাম ও পরিচিতিতে খ্রিষ্টান না হলেও মনমেজাজ, ধ্যানধারণা ও চিন্তাচেতনায় সে ইসলামবিমুখ। এবং সে সম্পূর্ণ অজ্ঞাতে আমাদের মিশনের একজন বড় পৃষ্ঠপোষক। তার পক্ষ থেকে আমাদের অনিষ্টের কোনো আশঙ্কা নেই। সে আমাদের ও মিশনের বিরুদ্ধেও টুঁ শব্দটিও করতে পারে না। এটা আমাদের সে সফলতা, দুনিয়ায় যার নজির নেই’ (মাসিক বাইয়েনাত, করাচি, শাবান-১৩৮৬ হিজরি)।
যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন ষড়যন্ত্র ও আগ্রাসন চালিয়ে যে দেশ দখল করে, সেখানেই রাষ্ট্রীয় ছত্রছায়ায় যাজকদের খ্রিষ্টধর্ম ও সংস্কৃতি প্রচারের ব্যাপক সুযোগ করে দেয়। যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরাকের আর্থ-রাজনৈতিক পুনর্গঠনের আড়ালে খ্রিষ্টধর্ম বিকাশে বাইবেল প্রচারকদের অগ্রণী ভূমিকা এরই বহিঃপ্রকাশ। সমপ্রতি কানাডার বৃহত্তম সংবাদপত্র টরোন্টো স্টার ‘মার্কিন বাইবেল প্রচারকেরা ইরাকের জন্য সুবৃহৎ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে’ শিরোনামে চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়, ‘সাদার্ন ব্যাপটিস্ট কনভেনশনের প্রেসিডেন্ট চার্লস স্ট্যানলি যুদ্ধবিধ্বস্ত ও স্বজনহারা ইরাকি জনগণকে তাদের অসহায়ত্বের সুযোগে রিলিফ সরবরাহের পাশাপাশি খ্রিষ্ট ধর্মে দীক্ষিত করার মহাপরিকল্পনায় হাত দিয়েছেন।’
এনজিও ও মিশনারিরা ৯০ শতাংশ মুসলমানের বাংলাদেশে সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের মতো সঙ্ঘাতমুখী যে পরিসি'তি সৃষ্টি করতে যাচ্ছে, তাতে নীরব বসে থাকা যায় না। একটি স্বাধীন দেশের জন্য এমন পরিস্থিতি ভয়াবহ। বাংলাদেশের অর্ধশতাধিক অনিবন্ধিত এনজিও ২০০১ সালে অবৈধভাবে বিদেশ থেকে ৫৫ কোটি টাকা এনেছে এবং আশ্চর্যের বিষয়, দেশী-বিদেশী ব্যাংকের মাধ্যমে পুরো অর্থ ছাড় করে নিয়ে গেছে। আমরা এনজিওদের দেশীয় সংস্কৃতি ও আদর্শবহির্ভূত সব কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার দাবি জানাই। নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এনজিওদের কর্মকাণ্ড ঘনিষ্ঠভাবে মনিটরিং করা সময়ের অপরিহার্য দাবি। এই প্রেক্ষাপটে মুসলমানের ত্যাগ ও সেবার মানসিকতা নিয়ে বাস্তব কর্মসূচি হাতে নিতে হবে, যাতে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব এবং নিজেদের ঐতিহ্য ও কৃষ্টি রক্ষা করা যায়।
রাজনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবী, আলেমসহ সর্বস্তরের মুসলমানদের এ বিষয়ে সুচিন্তিত কর্মপন্থা নির্ধারণ করতে হবে। ভারতীয় উপমহাদেশে ইংরেজ রাজত্বে মিশনারিদের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে মাওলানা রহমাতুল্লাহ কিয়ানবী রহ:, হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কি রহ:, পণ্ডিত রিয়াজুদ্দীন মাশহাদী রহ:, মুনশি মেহেরুল্লাহ প্রমুখ যেভাবে বক্তৃতা, লেখনী ও কর্মকৌশলের মাধ্যমে গণ-আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন, তা এখনো আমাদের জন্য প্রেরণার উৎস।

Partner site : online news / celebrities /  celebrity image
website design by Web School.
Read more

লাতিন আমেরিকায় ইসলামিক সেন্টার

,


dormo_latin-amrica.jpg
আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েন্স আয়ার্সের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত কিং ফাহাদ ইসলামিক কালচারাল সেন্টার লাতিন আমেরিকায় ইসলামী সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এটা লাতিন আমেরিকার সর্ববৃহত্ ইসলামিক সেন্টার। প্রেসিডেন্ট কার্লোস মেনেম (১৯৮৯-১৯৯৯) সৌদি আরব সফরকালে ১৯৯৫ সালে বুয়েন্স আয়ার্সের পালেরমো সেক্টরে আট একর ভূমি ইসলামিক কালচারাল সেন্টারের জন্য দান করেন। তখন এ ভূমির বাজারমূল্য ছিল ১ কোটি ডলার। কার্লোস মেনেম ক্যাথলিক খ্রিস্টান হলেও তাঁর পূর্ব পুরুষ ছিলেন সিরীয় বংশোদ্ভূত মুসলমান। ফলে মুসলমানদের প্রতি ছিল তাঁর আলাদা মমত্ববোধ।
সৌদি স্থপতি জুহাইর ফয়েজ কর্তৃক ডিজাইনকৃত এ কেন্দ্রটির নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১৯৯৮ সালে এবং সমাপ্তি ঘটে ২০০০ সালে। আধুনিক মসজিদ, আর্ট গ্যালারি, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, প্রশাসনিক ভবন, প্রাথমিক-মাধ্যমিক ইসলামিক বিদ্যালয়, গণপাঠাগার, ক্যাফে, খেলার মাঠ, ছাত্রাবাস, আন্ডারগ্রাউন্ড গাড়ি পার্ক, দুজন ইমামের বাসভবন—এ সেন্টারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। দু’টি সুউচ্চ মিনার রাতের বেলা চারপাশে আলোক বিচ্ছুরণ ঘটায়। পাম বৃক্ষ ও ঘাস আচ্ছাদিত প্রশস্ত আঙ্গিনা সেন্টারের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। সৌদি সরকার দেড় কোটি ডলার ব্যয়ে সেন্টারটি নির্মাণ সম্পন্ন করে। সেন্টারের মসজিদে ১২০০ পুরুষ ও ৪০০ মহিলাসহ মোট ১ হাজার ৬০০ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন। যদিও আর্জেন্টিনায় আরও মসজিদ ও ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্র রয়েছে, তারপরও কিং ফাহাদ ইসলামিক কালচারাল সেন্টারের ঐতিহ্য চোখে পড়ার মতো। সেন্টারটি আর্জেন্টিনার মুসলিম কমিউনিটির মিলন কেন্দ্র এবং অন্য ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মুসলমানদের সেতুবন্ধন রচনা করছে। সেন্টারটি এমন এক গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত, যার একদিকে রয়েছে গগনচুম্বি শপিংমল, অন্যদিকে রয়েছে ভিআইপি আবাসিক এপার্টমেন্ট। দিয়াগো ম্যারাডোনাসহ বহু সেলিব্রেটি এসব এপার্টমেন্টে বসবাস করেন। সপ্তাহের মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার দুপুরে ৪৫ মিনিটের জন্য যে কোনো ব্যক্তি সেন্টারটি পরিদর্শন করতে পারেন। যে কোনো প্রতিষ্ঠান আবেদন জানালে অন্য সময়েও পরিদর্শনের সুযোগ করে দেয়া হয়। তবে গ্রন্থাগার সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকে।

Partner site : online news / celebrities /  celebrity image
website design by Web School.
Read more

মুক্তির স্বপ্নিল প্রত্যাশায় উযবেক জনগোষ্ঠী

,

640px-Oliy_Majlis_(Parliament_of_Uzbekistan).jpg

উযবেক পার্লামেন্ট ভবন
উযবেকিস্তানের নাম নিলে মানস পটে ভেসে উঠে ঐতিহাসিক সমরকন্দ, বুখারা, তাসখন্দ ও আমু দরিয়া। উযবেকিস্তানের হাজার বছরের ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাথে যেমন জড়িয়ে আছে ইমাম বুখারী রাহ. ও ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী'র রাহ. নাম অপর দিকে তেমনি জীবন্ত রয়েছে পারসিক রাজা দারিয়ুস, মহাবীর আলেকজান্ডার, মোঙ্গলনেতা চেঙ্গিস খান ও বিশ্বত্রাস তৈমূর লঙের স্মৃতি। খ্রিষ্টপূর্ব ষষ্ট শতাব্দী হতে পর্যায়ক্রমে পরিচালিত বৈদেশিক শক্তির সামরিক অভিযান ও রাজনৈতিক উত্থান পতনের নীরব সাক্ষী উযবেকিস্তান। এই ভূখন্ডে ইসলামের প্রথম আগমন ঘটে অষ্টম শতাব্দীতে তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান রা. এর আমলে। উমাইয়া যুগে উযবেকিস্তানের কিছু এলাকা জয় করেন তৎকালীন খোরাসানের শাসনকর্তা সাউদ ইবন উসমান ও উবায়দুল্লাহ ইবন যিয়াদ এবং পুরো এলাকা ইসলামের ছায়াতলে আসে মুসলিম আলেকজান্ডার নামে খ্যাত হযরত কুতায়বা ইবন মুসলিমের রা. হাতে। ৭১৫ খ্রিষ্টাব্দে উযবেকিস্তানের তৎকালীন যাযাবর তুর্কী উপজাতির হাতে হযরত কুতায়বা রা. শাহাদত বরণ করেন।
৪,৪০,৪০০ বর্গ কিলোমিটার আয়তন বিশিষ্ট উযবেকিস্তানের জনসংখ্যা বর্তমানে ২,৩৮,৬০,৪৫২ জন। কৃষিজাত ফসল উৎপাদনে উযবেকিস্তান ঐতিহ্যগতভাবে যথেষ্ট কৃতিত্বের অধিকারী ছিল। আজ থেকে মাত্র ২০ বছর আগে সাবেক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রগুলোর মধ্যে তুলা উৎপাদনে উযবেকিস্তান ছিল প্রথম এবং গোটা পৃথিবীর মধ্যে তৃতীয়। সোভিয়েত ইউনিয়নের মোট উৎপাদনের মধ্যে কেবল উযবেকিস্তান সরবরাহ করতো ৬৫% তুলা, ৫০% চাল এবং ৬০% Lucern Grown। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের অঙ্গ প্রজাতন্ত্রগুলোর মধ্যে উযবেকিস্তানের অবস্থান অবস্থিতি হচ্ছে ভূ-রাজনৈতিক ও সামরিক দিক দিয়ে গোটা মধ্য এশিয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
করিমভের দুঃশাসনঃ
১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দে বলশেভিক বিপ্লবীরা উযবেকিস্তানকে সোভিয়েত সাম্রাজ্যভূক্ত করে নেয়। ১৯৯১ খ্রিষ্টাব্দে রাশিয়ায় সমাজতন্ত্রের পতনের পর উযবেকিস্তান তার হৃত স্বাধীনতা ফিরে পেলেও প্রাক্তন কমিউনিষ্ট নেতা ইসলাম করিমভ নতুন পরিচয়ে ক্ষমতা দখল করে বসেন। উযবেক কমিউনিষ্ট পার্টির নতুন নাম রাখা হয় পিপলস ডেমোক্রাটিক পার্টি অব উযবেকিস্তান। ক্ষমতায় বসে তিনি একে একে চন্ডনীতির আশ্রয় নিতে থাকেন। ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দে প্রণীত ও গৃহীত সংবিধানে বহুদলীয় গণতন্ত্র, মতামতের স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের গ্যারান্টি থাকলেও প্রেসিডেন্ট ইসলাম করিমভ ষ্টালিনবাদী মানসিকতা নিয়ে দেশ পরিচালনা করতে থাকেন। ১৯৯৩ খ্রিষ্টাব্দে রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত কতিপয় পত্রিকা ছাড়া সব সংবাদপত্র বন্ধ করে দেয়া হয়। ইসলামী রেনেসাঁ পার্টি, আদালত পাটি ও উযবেক বুদ্ধিজীবিদের সংগঠন ‘বিরলিক’ নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়। ১৯৯৬ খ্রিষ্টাব্দে জারী করা এক আদেশে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল গঠন বেআইনি ঘোষণা করা হয়। ইসলামপন্থীদের উপর চলে বেপরোয়া নির্যাতন, ধরপাকড় ও নিগ্রহ। এক কালের শস্য ও ফসল সমৃদ্ধ এই জনপদ ধীরে ধীরে বিরান ভূমিতে পরিণত হয়।
সোভিয়েত আমলের কমিউনিষ্ট পার্টির প্রথম সেক্রেটারী ইসলাম করিমভ ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দ হতে উযবেকিস্তানের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা আগলে রেখেছেন। কমিউনিষ্ট আমলের মতো তিনি কঠোর হস্তে প্রশাসন ও অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন। আইনের শাসন, মানবাধিকার ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা উযবেকিস্তানে বিলাস কল্পনা। ইসলাম করিমভের ২০ বছরব্যাপী নিবর্তনমূলক শাসনের ফলে উযবেকিস্তানে কোন ধরনের প্রশাসনিক সংস্কার হয়নি, সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে উঠেনি, শক্তিশালী গণতান্ত্রিক কাঠামো তৈরী হয়নি এবং দেশী-বিদেশী বিনিয়োগের ফলে নতুন কর্ম সংস্থান সৃষ্টি হয়নি। সোভিয়েত আমলে গড়ে উঠা মেশিনারী, খাদ্য প্রক্রিজাতকরণ, গ্যাস, বস্ত্র ও অন্যান্য শিল্প কারখানাগুলো প্রয়োজনীয় পুঁজির অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। অবস্থা সম্পন্ন কৃষকগণ ধীরে ধীরে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষীতে পরিণত হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ গ্রামমুখি হয়েছে বেকার জনিত অর্থনৈতিক বঞ্চনার কারণে। ইসলাম করিমভের কর্র্তৃত্ববাদী শাসনে সৃষ্ট ক্রমবর্ধমান দরিদ্রতা উযবেকিস্তানের সাধারণ জনগনের জন্য আভিশাপ বয়ে এনেছে। অপর দিকে ক্ষমতাসীনচক্র বিপুল বিত্ত-বৈভবের মালিক বনে গেছে বিশেষ করে বিলি, মবিল, ষোল, ইউনিকল, শেল, টোটাল সহ আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাস কোম্পানীগুলোকে খনিজ কূপ ইজারা দিয়ে। এ ছাড়া উযবেকিস্তানে রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটির উপস্থিতি গণ অসন্তোষের আরেকটি অন্যতম কারণ। করিমভ স্বীয় আর্থ-রাজনৈতিক স্বাথ চরিতার্থ করার জন্য দু’টি পরাশক্তিকে ঘাঁটি স্থাপনের অনুমতি দেয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানের ইসলামপন্থীদের দমন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচীর উপর নজরদারী ও এতদঞ্চলের বিপুল গ্যাস ও তেলের রিজার্ভ নিজের ভাগে আনার জন্য দক্ষিণ উযবেকিস্তানের খানাবাদে একটি বিশাল বিমান ঘাঁটি স্থাপন করে।
বিপুল তেল-গ্যাসের ভান্ডারঃ
এখানে উল্লেখ করা একান্ত প্রাসঙ্গিক যে, মধ্য এশিয়ার মাটির নিচে অভাবনীয় পরিমাণ তেল ও গ্যাসের আবিস্কার রুশ-মার্কিন পরাশক্তি ও তার বিশ্বস্ত মিত্রদের এ অঞ্চল নিয়ে নতুন চক্রান্তে উৎসাহিত করে তোলে। বিশেষজ্ঞদের মতে কাজাকিস্তানের সমুদ্র সৈকতে, উযবেকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান ও কাস্পিয়ান সাগরের ভূ-গর্ভে তেল সম্পদের পরিমাণ কমপক্ষে ২০ মিলিয়ন ব্যারেল। কোন কোন হিসেব মতে এই মজুদের পরিমাণ আনুমানিক ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল যা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে যে পরিমাণ তেলের রিজার্ভ আছে তা ছাড়িয়ে যাবে। যথাযথভাবে অনুসন্ধান ও উত্তোলন করা সম্ভব হলে কাজাকিস্তানের তেল সম্পদ সৌদি আরবের চেয়েও বেশী আর তুর্কমেনিস্তানের ভূ-গর্ভে যে পরিমাণ তেলের মজুদ রয়েছে তা পরিমানের দিক দিয়ে গোটা বিশ্বের তালিকায় পঞ্চম। কেউ কেউ মনে করেন কাজাকিস্তানের তেল সম্পদের মজুদ নাইজেরিয়া বা লিবিয়ার চেয়েও বেশী অপর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের তেলের রিজার্ভ ২১ মিলিয়ন ব্যারেল। (অধ্যাপক আলী রীয়াজ, হায়দার আকবর খান রনো, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও রক্তাক্ত আফগান, পৃ.৪৬১-৪৬৬, ৫৫৬-৫৫৯)
নৃশংস হত্যাযজ্ঞঃ
ঈঙ্গ-মার্কিন-রুশ অক্ষ শক্তির ক্রীড়নক স্বৈরশাসক ইসলাম করিমভ সামপ্্রতিক কালে নজিরবিহীন নৃশংসতা ও পৈশাচিক হত্যাকান্ড চালিয়ে উযবেকিস্তানের ইসলাম প্রিয় জনগনের দীর্ঘ দিনের লালিত খিলাফত প্রতিষ্ঠার চেতনাকে গুড়িয়ে দেবার অপচেষ্টা চালিয়েছেন। বরং আনদিজানের ১২০০ শহীদের খুনরাঙ্গা পথ ধরে উযবেকিস্তানে যে ইসলামের ঝান্ডা উড়বে এটা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। ১৯৯১ খ্রিষ্টাব্দে স্বাধীনতা প্রাপ্তির পর এত বড় আকারের বিদ্রোহ উযবেকিস্তানে ইতোপূর্বে আর কখনো দেখা যায়নি। শহীদের রক্তে যে মাটি সিক্ত হয়, ঈমানের রক্ত গোলাপ সেখানে ফুটবেই ফুটবে আজ অথবা কাল। প্রেসিডেন্ট ইসলাম করিমভ সেনাবাহিনীকে দেশপ্রেমিক জনগনের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়ে আসন্ন গণ অভ্যুত্থান ঠেকাতে পারবেন বলে মনে হয়না। অভ্যুত্থান অন্যান্য প্রদেশে ছড়িয়ে পড়লে সেনাবাহিনী তাঁর পক্ষ ত্যাগ করতে পারে। কারণ সেনাবাহিনী আম জনতার রক্তস্রোতের উপর স্বৈরশাসকদের বেশী দিন ক্ষমতার মসনদে ঠিকিয়ে রাখেনা। কারণ সেনাসদস্যরা জনগনেরই সন্তান। কিরঘিজিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসকার আকায়েভের মতো ইসলাম করিমভকেও উযবেকিস্তানের ক্ষমতা ছাড়তে হবে। কিরঘিজিস্তানের দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী ১৪ বছর পর্যন্ত আসকার আকায়েভকে ক্ষমতায় রেখেছিল কিন্তু তিনি যখন সেনাবাহিনীকে কিরঘিজিস্তানের নিরীহ জনগনের মুখোমুখি দাঁড় করালেন তখন সেনাবাহিনী অস্ত্র পরিত্যাগ করে গণমানুষের সাথে রাজপথে নেমে আসে। প্রেসিডেন্ট আসকার আকায়েভ ক্ষমতাচ্যুত হন। সুতরাং প্রতিবেশী কিরঘিজিস্তানের সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থান ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা বদলের প্রভাব উযবেকিস্তানে পড়বে এটা একান্ত স্বাভাবিক ও সহজ রাজনৈতিক সমীকরণ।
বঞ্চনা, অপশাসন, নিপীড়ন ও বিদেশীদের সামরিক ঘাঁটি ইত্যাদি কারণে উযবেকিস্তানের সাধারণ জনগণের মাঝে ক্ষোভ, দ্রোহ ও বিক্ষোভ দেখা দেওয়া একান্ত যৌক্তিক। ইতোমধ্যে হিযবুত তাহরিরসহ ইসলামী দলগুলো তাদেরকে ভিত্তি ও অবস্থানকে সুসংহত ও শক্তিশালী করে নেয়। অত্যাসন্ন মুক্তির স্বপ্নিল প্রত্যাশায় মুস্তায্আফিনরা দলে দলে ইসলামী পার্টির ব্যানারে জমায়েত হচ্ছে। ইসলামী দলগুলোর প্রতি ক্রমবর্ধমান হারে জনগনের আস্থা ও সমর্থন বেড়ে চলেছে। তাঁরা ইসলামী আদর্শের আলোকে সমাজ ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিবর্তন চায়। তারল্য সংকট দূরীকরণ ও অর্থনৈতিক বন্ধ্যাত্বের আবসান কল্পে পুঁজির প্রবাহ অবারিত করতে চায়। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে কিছুদিন পূর্বে উযবেকিস্তানের চতুর্থ বৃহত্তম শহর আন্দিজানের ২৩ জন ব্যবসায়ী একটি কনষ্ট্রাকশন কোম্পানী গঠন করে। রাষ্ট্রীয় অর্থনীতির বাইরে কনষ্ট্রাকশন কোম্পানী গঠন পূর্বক কর্মসংস্থান সৃষ্টির এ প্রয়াসকে ইসলাম করিমভ সরকার রাষ্ট্রদ্রোহিতামূলক কাজ বিবেচনা করে এবং উদ্যেক্তা ২৩ ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করে কারাগারে অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায়। ২৩ জন ইসলাম পন্থী ব্যবসায়ীর মুক্তির দাবীতে আন্দিজান ও পোখতাবাদে আন্দোলন শুরু হয়। করিমভ সরকার আন্দোলনকারী জনতাকে দমন করার জন্য নির্বিচারে গ্রেফতার, ব্যাপক নির্যাতন ও বিচারের নামে প্রহসনের পথ বেছে নেয়। উযবেকিস্তানের বিচার ব্যবস্থার উপর আন্দোলনকারীদের আস্থা নেই। কারণ উযবেক আদালতগুলো সর্বোতভাবেই ইসলাম করিমভ নিয়ন্ত্রিত। বিগত মাসগুলোতে বিক্ষোভ চরম আকার ধারণ করে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং গন অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীরা এক পর্যায়ে স্থানীয় সেনা ছাউনীতে হামলা চালিয়ে অস্ত্র ও গোলা বারুদ লুঠ করে নেয়। কারাগার দখল করে ২৩ জন ব্যবসায়ী সহ দু’হাজার বন্দীকে মুক্ত করে দেয়। মেয়র কার্যালয়সহ বেশ কয়েকটি সরকারী ভবন বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। বিক্ষোভকারীদের হাতে স্থানীয় সিনেমা ও থিয়েটার হল ভস্মীভূত হয়ে যায়। ইসলাম করিমভ সরকার রাজনৈতিকভাবে সংকট মুকাবেলা না করে রুশ জার বলশেভিকদের মতো নিষ্ঠুর দমন নীতির আশ্রয় নেয় এবং নিজ দেশের জনগনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। বিক্ষোভকারীদের দমনের জন্য সেনা বাহিনী নির্বিচারে গুলি চালায় এবং নৃশংস কায়দায় মানুষ হত্যা করে। সরকারী সৈন্যরা বহু নিরস্ত্র ও নিরীহ লোককে মেরে ফেলে। ইন্টারন্যাশনাল হেলসিংকি ফেডারেশন ফর হিউম্যান রাইটস এবং হিউম্যান রাইটস সোসাইটি অব উযবেকিস্তান এক হাজার মানুষের শাহাদত বরণের কথা স্বীকার করে। বাস্তবে মৃতের সংখ্যা আরো বেশী। প্রায় ১৫ হাজার নারী-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধ প্রাণ ভয়ে ও নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে প্রতিবেশী দেশ কিরঘিজিস্তানে সীমান্তে জড়ো হয়। শরণার্থীদের মধ্যে বিপুল সংখ্যক আহত ব্যক্তিও রয়েছেন। প্রতিবেশী কিরঘিজিস্তানের মানুষ সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে উযবেক জনগণের প্রতি সহানুভূতিশীল। সহিংসতার প্রকৃত তথ্য বিশ্ববাসীদের কাছ থেকে আড়াল করার জন্য উযবেক সরকার আন্তর্জাতিক টেলিভিশন ও সংবাদ মাধ্যমের কর্মিদের যুদ্ধ বিধ্বস্ত এলাকা হতে বের করে দেয় এবং রক্তক্ষয়ী দমনাভিযানের আন্তর্জাতিক তদন্তের জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের আহবানও প্রত্যাখ্যান করে।
পরিবর্তনের হাওয়াঃ
গোটা মধ্য এশিয়া জুড়ে একটি ব্যাপক পরিবর্তনের হাওয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এটার উপসর্গ সাম্প্রতিক কালে দেখা গেলেও প্রেক্ষাপট তৈরী হয়েছে কিন্তু বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশক থেকেই। ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দে রাশিয়ায় বলশেভিক বিপ্লবের পর ১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে কমিউনিষ্টরা আগ্রাসন চালিয়ে একে একে আযারবাইযান, কাজাকিস্তান, কিরঘিজিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, তাজিকিস্তান ও উযবেকিস্তান সোভিয়েত ইউনিয়নভূক্ত করে নেয়। কমিউনিজমের স্টিমরোলার চালিয়ে দীর্ঘ ৭৪ বছর ধরে এ ৬টি রাষ্ট্রের জনগণকে নির্মমভাবে দমিয়ে রাখা হয়। ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার হারা জনগণের মাঝে বঞ্চনাজনিত অসন্তোষের দানা বেধে উঠে। স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের চেতনায় তারা উদ্বুদ্ধ হতে থাকে। অবশেষে মিখাইল গর্ভাচভের ‘গ্লাসনস্ত’ ও ‘প্রেস্ত্রয়কা’ এর মাধ্যমে এ দেশগুলো স্বাধীন দেশ হিসেবে আতœপ্রকাশ করে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় সে পুরনো সমাজতান্ত্রিক নেতা ও পলিটব্যুরোর সদস্যগণ, যারা জনগণের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, তারাই আবার কৌশলে নতুন নামে, নতুন দলে, নতুন ব্যানারে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে নেয়। আযারবাইযানের হায়দার আলিয়েভ, কাজাকিস্তানের নূর সুলতান নাজারবায়েভ, তাজিকিস্তানের রাখমানে নাকিয়ভ, তুর্কমেনিস্তানের সাপার মুরাদ নিয়াজভ, কিরঘিজিস্তানের আসকার আকায়েভ এবং উযবেকিস্তানের ইসলাম করিমভের নাম সবিশেষ উল্লেখযোগ্য। ফলে সাধারণ মানুষের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হয়নি। তাদের সব আশা আকাক্সক্ষা ব্যর্থতার চোরাবালিতে হারিয়ে যায়। শিরদাঁড়া সোজা করার জন্য জনগণ মরিয়া হয়ে উঠে। আঘাতের বদলে প্রত্যাঘাতের প্রস্তুতি চলতে থাকে নীরবে, আড়ালে ও আবডালে; এমনকি সরকারী গোয়েন্দা সংস্থার রক্তচক্ষুকে ফাঁকি দিয়ে।
শেষকথাঃ
ইসলাম করিমভের এ ড্যাম কেয়ার মানসিকতার পেছনে কাজ করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ মদদ কারণ আমেরিকার তথাকথিত সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধে করিমভ হচ্ছেন অন্যতম সমর্থক। উযবেকিস্তানের সাম্প্রতিক ঘটনা প্রবাহে মার্কিন সরকারের পররাষ্ট্রনীতির ভন্ডামি ও ডাবল ষ্টান্ডার্ড পলিসি নগ্নভাবে প্রকাশ পেয়েছে। এছাড়া কাজাকিস্তান, কিরঘিজিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, তাজিকিস্তানের স্বৈরশাসকরা করিমভ সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভূক্ত মধ্য এশিয়ার এসব দেশের ক্ষমতায় যারা অধিষ্টিত তারা সবাই ষ্টালিনবাদী মানসিকতায় আক্রান্ত। আই এইচ টি এর নিম্নোক্ত সংবাদভাষ্য এ ক্ষেত্রে সবিশেষ প্রনিধানযোগ্যঃ ‘উযবেকিস্তানের আন্দিজান এলাকাটি কয়েক শতক আগে থেকেই গোটা মধ্য এশীয় অঞ্চলে পণ্য ও আদর্শ বিস্তারের ক্ষেত্রে একটি কেন্দ্রভূমি হিসেবে পরিগনিত হয়ে আসছে। সেদিক থেকে এই এলাকার গুরুত্ব এবং সংবেদনশীলতা অন্য এলাকার চেয়ে অনেক বেশী। এ অবস্থায় আন্দিজানে সেনা ও ট্যাংক মোতায়েন করে ত্রাস সৃষ্টি করা যাবে ঠিকই, কিন্তু করিমভ সরকারের এই ভ্রান্ত নীতি সেখানকার প্রাচীন ইতিহাসকে অস্বীকার করার সাথে তুল্য হিসেবে বিবেচিত হবে। কারণ এই আন্দিজান থেকেই একদিন রাশিয়ার নির্দয় জার শাসনের বিরুদ্ধে এবং পরবর্তীতে সোভিয়েত সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ সংগ্রামের সূচনা হয়েছিল।’ (ইনকিলাব, ৩০ মে,২০০৫)
উপর্যুক্ত ইতিহাস থেকে ইসলাম করিমভের অনেক কিছু শেখার আছে। সংস্কার ও উদারীকরণের পথ বেছে নেয়া হবে তাঁর জন্য স্বস্তির ব্যাপার। সাধারণ মানুষকে আস্থায় নিতে না পারলে কেবল সামরিক শক্তি দিয়ে বেশী দিন দেশ শাসন করা যায়না। মুলতঃ তিনি প্রজ্বলিত লাভাময় আগ্নেয়গিরির উপর দাঁড়িয়ে আছেন। সেনাবাহিনী লেলিয়ে দিয়ে এবং শক্তি প্রয়োগ করে তিনি যদি ধুমায়িত অসন্তোষ দমাতে চান, তাহলে কিরঘিজিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসকার আকায়েভ ও জর্জিয়ার প্রেসিডেন্ট এডওয়ার্ড শেভার্দনাদজের মতো নির্মম ভাগ্য বরণ করতে হবে গণ অভ্যুত্থানের মুখে। বর্তমানে উযবেকিস্তানসহ গোটা মধ্য এশিয়া জুড়ে লক্ষ তরুনের প্রাণে ইসলামী খিলাফত প্রতিষ্ঠার আগুন জ্বলছে এবং কখন ইসলাম করিমভকে সেই আগুন গ্রাস করে সেটা দেখার বিষয়। #
640px-Samarkand_view_from_the_top.jpg
ঐতিহাসিক সমরকন্দ নগরী

Partner site : online news / celebrities /  celebrity image
website design by Web School.
Read more

পরমতসহিষ্ণুতা: মানব জীবনের এক অপরিহার্য গুণ

,

Diganta.gif
অপরের মত, পরামর্শ, ধ্যানধারণা ও বিশ্বাসের প্রতি ইসলাম সব সময় শ্রদ্ধাশীল। গঠনমূলক সমালোচনাকে ইসলাম সব সময় স্বাগত জানায়। ভিন্ন মতের প্রতি ইসলামের আচরণ সহানুভূতিপূর্ণ। কারণ মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা না থাকলে সুষ্ঠু সমাজ গঠন ও পরিচালনা অসম্ভব হয়ে পড়ে। সহিষ্ণুতা নিঃসন্দেহে মানবিক গুণাবলির মধ্যে শ্রেষ্ঠতম এবং সামাজিক মূল্যবোধ নির্মাণের তাৎপর্যপূর্ণ বুনিয়াদ। অপরের কথা, বক্তব্য, মতামত, পরামর্শ ও জীবনাচার যতই বিরক্তিকর ও আপত্তিকর হোক না কেন তা সহ্য করার মতো ধৈর্য ও স্থৈর্য যদি মানুষের মধ্যে না থাকে তাহলে সমাজে নৈরাজ্য, উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে বাধ্য। মত প্রকাশের স্বাধীনতা যদি বাধাগ্রস্ত হয় তাহলে আধিপত্যবাদ, স্বৈরাচার সমাজ ও রাষ্ট্রে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে।
তাই যে জাতি যত বেশি সহনশীল ওই জাতি তত বেশি সুখী, সমৃদ্ধিশালী ও অগ্রসর। ধর্ম, বর্ণ, জাতি, গোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক বন্ধন, আস্থা অর্জন ও সৌহার্দ্য সৃষ্টির জন্য পরমতসহিষ্ণুতার গুণ অপরিহার্য পূর্ব শর্ত। পবিত্র কুরআন সহিষ্ণুতার মহৎ গুণটি অর্জনের জন্য জোরাল ভাষায় তাগিদ দিয়েছে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ সা: ও মহান চার খলিফা নিজেদের জীবনে পরের মতামত ও বিশ্বাসের প্রতি নমনীয় ও সহানুভূতিপ্রবণ ছিলেন, ইতিহাসে তার অসংখ্য দৃষ্টান্ত রয়েছে।
মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে ইসলাম উৎসাহিত করেছে এটা সঠিক তবে সেটাকে বল্গাহীন করেনি। কারণ কোনো উগ্র মতামত ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য যদি অপরের, দলের, জাতির, গোষ্ঠীর ও ধর্মের সূক্ষ্ম অনুভূতিকে আহত করে অথবা সমাজে ফিৎনা-ফ্যাসাদের জন্ম দেয় তাহলে তা বর্জনীয়। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে, ‘তারা সত্যের আদেশ দেয় এবং অন্যায় থেকে বিরত রাখে।’
উপর্যুক্ত গুণ মত প্রকাশের স্বাধীনতা ছাড়া সৃষ্টি হতে পারে না। বর্ণিত আয়াতে কেবল ওই স্বাধীনতার গ্যারান্টিই নিশ্চিত করে না বরং এই স্বাধীনতাকে ব্যবহার করার পথও নির্দেশ করে দেয়। একজন মুসলমান মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে কেবল সত্য ও কল্যাণের বিকাশে ব্যবহার করতে পারেন। অসত্য ও অন্যায় প্রচারে এই স্বাধীনতা ব্যবহৃত হতে পারে না। কারণ এটা মুনাফিকের বৈশিষ্ট্য। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, ‘তারা অন্যায়ের আদেশ দেয় এবং সত্য ও কল্যাণে বাধা দান করে’ (আত-তাওবা: ৬৭)। পবিত্র কুরআনে বনি ইসরাইলের পতনের অন্যতম কারণ নির্দেশ করে বলা হয়েছে, ‘তারা যেসব গর্হিত কাজ করত তা হতে তারা একে অন্যকে বারণ করত না। তারা যা করত তা কতই না নিকৃষ্ট’ (আল মায়িদা : ৭৯)। মহানবী সা: বলেন, ‘অত্যাচারী শাসকের সামনে সত্য কথা-ন্যায় কথা বলা উত্তম জিহাদ’ (আবু দাউদ, তিরমিযি)।
ইতিহাস এ কথা স্পষ্ট সাক্ষী দেয় যে, মদিনা প্রজাতন্ত্রের জনগণ নির্বিঘ্ন ও নির্ভয়ে মহানবী হজরত মুহাম্মদ সা: ও চার পুণ্যবান খলিফার সামনে তাদের মতামত ব্যক্ত করতে পারতেন। মহানবীর সা: অভ্যাস ছিল যে বিভিন্ন বিষয়ে তিনি সাহাবায়ে কেরামের মতামত নিতেন এবং মত প্রকাশে উৎসাহিত করতেন। ওহুদের যুদ্ধের সময় মহানবী সা: এবং বিশিষ্ট সাহাবাদের মত ছিল মদিনা শহরের অভ্যন্তরে অবস্থান করে শত্রুর সাথে যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়া, কিন্তু হজরত হামযাহ রা: এবং অপেক্ষাকৃত যুবক সাহাবিগণ শহরের বাইরে কোনো উন্মুক্ত প্রান্তরে গিয়ে যুদ্ধ করার পক্ষে মতামত ব্যক্ত করেন। রাসূলুল্লাহ সা: তাদের এই মতামত গ্রহণ করে ওহুদের প্রান্তরে কুরাইশদের সাথে যুদ্ধে অবতীর্ণ হন। একদা মহানবী সা: যুদ্ধলব্ধ সামগ্রী যোদ্ধাদের মধ্যে বণ্টন করছিলেন। একজন বলে ওঠেন, ‘গনিমাতের বণ্টন আল্লাহর ইচ্ছের পরিপন্থী হয়েছে।’ রাসূলুল্লাহ সা: কেবল জবাব দিলেন, ‘আমি যদি ইনসাফ না করি তাহলে ইনসাফ করবে কে?’ কিন্তু ভিন্ন মত পোষণকারীদের মুখ বন্ধ করে দেননি।
হজরত যুবায়ের রা: এবং এক আনসারির মধ্যে সৃষ্ট বিরোধের এক মামলা বিশ্বনবীর সা: আদালতে প্রেরিত হয়। সাক্ষী প্রমাণ ও তথ্যাদি যাচাই করে বিশ্বনবী সা: হজরত যুবায়েরের অনুকূলে রায় প্রদান করেন। কন্তু আনসারি ক্রোধান্বিত হয়ে মন্তব্য করেন, ‘আপনি ফুফাতো ভাইয়ের পক্ষে রায় দিলেন।’ এটা ছিল বিশ্বনবীর সা: সততা ও ন্যায় ইনসাফের প্রতি খোলা চ্যালেঞ্জ, কিন্তু রাসূলুল্লাহ সা: তাকে ক্ষমা করে দেন। ভিন্ন মতের জন্য কোনো শাস্তি দেননি। এক যুদ্ধ অভিযানের সময় মহানবী সা: মুসলমানদের হুকুম দিলেন যে, অমুক অমুক জায়গায় তোমরা শিবির স্থাপন করো। এক সাহাবি জানতে চাইলেন এই হুকুম কি আল্লাহপ্রদত্ত ওহি, না আপনার ব্যক্তিগত অভিমত? রাসূল সা: বলেন! এটা আমার ব্যক্তিগত অভিমত। সাহাবি উত্তর দিলেন অমুক জায়গা শিবির স্থাপনের উপযোগী নয় বরং এর পরিবর্তে অমুক অমুক স্থান ক্যাম্প স্থাপনের উপযোগী এবং সহায়ক। আল্লাহর রাসূল নিঃসঙ্কোচে সাহাবির এই অভিমত মেনে নেন।
ইসলামের প্রথম খলিফা হজরত আবু বকর রা: মতামতের স্বাধীনতা অনুমোদন করে জনগণের উদ্দেশে বলেন, ‘আমাকে অনুসরণ করো যতক্ষণ আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অনুসরণ করব। যদি আমি গোমরাহির পথে পরিচালিত হই তবে তোমরা আমাকে সঠিক পথের দিশা দেবে।’ হজরত উমর রা: ক্ষমতায় থাকাকালীন বক্তৃতারত অবস্থায় মদিনার জনগণকে বলেন, ‘আমি যদি ভুল পথে পরিচালিত হই তখন তোমরা কী করবে?’ তাৎক্ষণিকভাবে একজন উত্তর দিলেন, ‘এই তরবারি দিয়ে সোজা পথে নিয়ে আসবা’। পরমতসহিষ্ণুতার এই উজ্জ্বল দৃষ্টান্তে দুনিয়াবাসী অভিভূত হয়েছে। হজরত উমরের রা: খিলাফতকালে সাধারণ মানুষ রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রাদেশিক গভর্নরের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মতামত ও অভিযোগ পেশ করতে পারতেন। যেকোনো নাগরিকের ভিন্নমত প্রকাশে বাধা দেয়া হতো না। হজরত আমর ইবনে আস রা: হজরত মুগিরা ইবনে শো’বা রা: হজরত আবু মুসা আশআরি রা: ও হজরত সা’দ ইবনে ওয়াক্কাসের রা: মতো খ্যাতনামা প্রাদেশিক গভর্নরদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো হজরত উমর রা: প্রকাশ্যে জনসমক্ষে শুনানি করতেন।
পথ চলার সময় এক মহিলা হজরত উমরকে রা: লক্ষ্য করে বলেন, ‘উমর! তোমার এই অবস্থার জন্য আফসোস! আমি তোমার আগের অবস্থা দেখেছি যখন তুমি লাঠি হাতে একদিন ওকায প্রান্তরে ছাগল চড়াতে। আজ তোমার এই অবস্থাও দেখছি যখন মানুষ তোমাকে আমিরুল মুমিনিন নামে সম্বোধন করে। জনগণের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো। যে ব্যক্তি আল্লাহর শাস্তিকে ভয় করবে সে আখেরাতের দূর জগৎকে একান্ত কাছে পাবে। যার মৃত্যুভয় আছে সে সর্বদা এই চিন্তায় বিভোর থাকবে এবং আল্লাহপ্রদত্ত অবসর সময় যাতে বিনষ্ট না হয় সে ব্যাপারে সচেতন থাকবে।’ জার আবদি, যিনি হজরত উমরের রা: সাথে ছিলেন, মহিলার এই বক্তব্য শুনে বলেন, ‘আপনি আমিরুল মুমিনিনের সাথে বাড়াবাড়ি করলেন।’ হজরত উমর তৎক্ষণাৎ তাকে বাধা দিয়ে বলেন, ‘মহিলা যা বলতে চান নির্দ্বিধায় তাকে বলতে দাও। তুমি হয়তো জানো না ইনি হচ্ছেন খাওলা বিনতি হাকিম যার কথা সপ্ত আকাশের ওপরে স্বয়ং আল্লাহ শোনেন, সেখানে আমি উমর কি ছাই যে, তার বক্তব্য শুনব না’ (আমীন আহসানা ইসলাহী, ইসলামী রিয়াসত, পৃ-৬২)।
এই কথা মনে রাখা দরকার যে, ইসলামী রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস'ায় প্রত্যেক নাগরিকের ধর্মবিশ্বাস ও নিজস্ব চিন্তাধারা পোষণ ও লালনের অধিকার রয়েছে। পবিত্র কুরআনের ফায়সালা, ‘ধর্মের ব্যাপারে জোরজবরদস্তি নেই; সত্য পথ ভ্রান্ত পথ থেকে সুস্পষ্ট হয়েছে’ (বাকারাহ : ২৬৫)।
মানবজাতির প্রতি মহানবী সা:-এর দায়িত্ব ব্যাখ্যা করে মহান আল্লাহ বলেন, ‘অতএব আপনি উপদেশ দিতে থাকুন, আপনি তো উপদেশদাতা। আপনি তো তাদের জোরজবরদস্তিকারী (কর্মনিয়ন্ত্রক) নন’ (আল-গাশিয়াহ : ২১-২২)।
ওয়াসাক রুমী নামের এক খ্রিষ্টান ক্রীতদাস বহু বছর ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমরের রা: কাছে ছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি হজরত উমর ইবনে খাত্তাবের রা: ক্রীতদাস ছিলাম। তিনি আমাকে বলতেন, ‘মুসলমান হয়ে যাও, যদি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করো তাহলে আমি তোমাকে মুসলমানদের আমানতদারির কোনো দায়িত্ব অর্পণ করব।’ কিন্তু আমি ইসলাম কবুল করিনি। এতে হজরত উমর রা: বলেন, ‘লা ইকরাহা ফিদ্বীন’ (ধর্মের ব্যাপারে জোরজবরদস্তি নেই।) মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এলে তিনি আমাকে মুক্ত করে দেন এবং বলেন তোমার যেখানে ইচ্ছে সেখানে চলে যেতে পারো’ (আবু উবাইদ, কিতাবুল আমওয়াল, পৃ. ১৫৪)। এ ঘটনা প্রমাণ করে ইসলামের অপরাপর জনগোষ্ঠীকে দাওয়াত দেয়ার নিয়ম আছে, কিন্তু জোর করে ধর্মান্তরিত করার বিধান নেই- হজরত উমরের এই সহনশীল ঘটনাই তার দৃষ্টান্ত।
হজরত উমর রা: জেরুসালেম সফরের সময় বায়তুল মাকদাসে এক গির্জার প্রকোষ্ঠে নামাজ আদায় করেন। পরে চিন্তা করলেন তার এই নামাজকে মুসলমানেরা প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করে খ্রিষ্টানদেরকে গির্জা থেকে বের করে দিতে পারে। পরে তিনি এক অঙ্গীকারনামা লিখে গির্জাটি খ্রিষ্টানদের উপাসনার জন্য নির্দিষ্ট করে দেন। তিনি মুসলমানদেরকে দলবদ্ধভাবে গির্জায় প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। কেবল এক ওয়াক্তে মাত্র একজন মুসলমান গির্জায় ঢুকতে পারবে (মুহাম্মদ হোসাইন হাইকাল, ওমর : ফারুকে আযম, পৃ. ৩০২)।
ধর্মবিশ্বাসের স্বাধীনতার ব্যাপারে ইসলামের নির্দেশ জবরদস্তি না করার মধ্যে কেবল সীমাবদ্ধ নয় বরং কারো অনুভূতি যাতে আহত না হয় সে ব্যাপারে সতর্ক থাকার জন্য হুকুম দেয়া হয়েছে। মূর্তিপূজারীদের প্রতিমার উদ্দেশে কোনো বিরূপ মন্তব্য করা যাবে না- এটাই কুরআনের নির্দেশ, ‘আল্লাহকে ব্যতীত যাদেরকে তারা ডাকে তোমরা তাদেরকে গালি দিয়ো না’ (আনআম : ১০৮)। ধর্মীয় বিতর্কে অনেক সময় মানুষ সতর্কতার সীমা ছেড়ে যায় এবং বিরুদ্ধ বিশ্বাসীদের গালাগালির টার্গেটে পরিণত করে। তাদের উপাসকদের পাশাপাশি শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিদেরও তারা গালাগালি ও অশালীন মন্তব্য করতে দ্বিধা করে না। পবিত্র কুরআন কঠোর ভাষায় মুসলমানদের নির্দেশ দিচ্ছে, ‘তোমরা উত্তম পন্থা (শালীনতা ও যুক্তি) ব্যতীত কিতাবিদের (ইহুদি-খ্রিষ্টান) সাথে তর্কে লিপ্ত হয়ো না’ (আনকাবুত : ৪৬)। কুরআনে বর্ণিত ‘আহসান’ শব্দটি বহুবিধ অর্থবোধক। ভদ্রতা, সৌহার্দ্য, ধৈর্য, সহিষ্ণুতা, যুক্তি প্রভৃতি ভালো গুণাবলিই ‘আহসান’-এর অন্তর্ভুক্ত।
উপরি উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিশিষ্ট মুফাসসিরে কুরআন আল্লামা মুফতি মুহাম্মদ শফী রহ: বলেন, কিতাবধারীদের সাথে উত্তম পন্থায় তর্ক-বিতর্ক করো। যেমন কঠোর কথাবার্তার জবাব নম্র ভাষায়, ক্রোধের জবাব সহনশীলতায় এবং মূর্খতাসুলভ হট্টগোলের জবাব গাম্ভীর্যপূর্ণ কথাবার্তার মাধ্যমে দাও (মা’আরিফুল কুরআন, সংক্ষিপ্ত, বাংলা সংস্করণ, পৃ. ১০৩১)।
ধর্মবিশ্বাস ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা হচ্ছে নাগরিক অধিকার। হজরত আলীর রা: খিলাফতকালে খারিজী সম্প্রদায়ের অভ্যুদয় ঘটেছিল। বর্তমানকালের নৈরাজ্যবাদী দলগুলোর সাথে ছিল তাদের অনেকটা সামঞ্জস্য। হজরত আলীর রা: খিলাফতকালে তারা প্রকাশ্যে রাষ্ট্রের অস্থিত্ব অস্বীকার করত, বক্তব্য রাখত এবং অস্ত্র বলে অস্তিত্ব বিলোপের জন্য বদ্ধপরিকর ছিল। হজরত আলী রা: তাদের কাছে নিম্নোক্ত পয়গাম পাঠান, ‘তোমরা যেখানে ইচ্ছে বসবাস করতে পারো। তোমাদের ও আমাদের মাঝে এই চুক্তি রইল যে, তোমরা রক্তপাত করবে না, ডাকাতি করবে না এবং কারো ওপর জুলুম করবে না, তোমরা যতক্ষণ বিপর্যয় ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করবে না, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা তোমাদের আক্রমণ করব না (নায়লুল আওতার, ৭ম খণ্ড, পৃ-১৩০-১৩৩)। ওই বক্তব্য থেকে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, কোনো দলের মতবাদ যাই হোক না কেন এবং শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের মত যেভাবে প্রকাশ করুক না কেন ইসলামী রাষ্ট্র তাতে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে না কিন্তু তারা যদি নিজেদের মত শক্তি প্রয়োগে বাস্তবায়িত করতে চায় এবং রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা চূর্ণবিচূর্ণ করার চেষ্টা করে তবে তাদের বিরুদ্ধে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পরিশেষে আমরা এ কথা জোর দিয়ে বলতে পারি যে, মত প্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে ইসলাম সব সময় সহিষ্ণু মনোভাব প্রদর্শন করেছে। কারণ সহনশীলতার অভাবে মত প্রকাশ বাধাগ্রস্ত হলে সুষ্ঠু সমাজ বিকাশের পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। বিবেকের স্বাধীনতা না থাকলে ব্যক্তি হয়ে পড়ে স্থানু, নিষ্পন্দ ও নির্জীব। চিন্তার স্বাধীনতা, মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা ও বিবেকের স্বাধীনতা সুশীলসমাজের ও সভ্য জীবনের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এসব স্বাধীনতা ব্যক্তির সহজাত অধিকার। ইসলামে রয়েছে এসব অধিকারের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি। পাশ্চাত্য চিন্তাবিদেরা ব্যক্তির পাঁচটি অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়েছেন অপর দিকে ইসলাম মানুষের সতেরটি অধিকার সুনিশ্চিত করেছে। মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা তন্মধ্যে অন্যতম। ইসলাম ব্যক্তির অধিকারের পাশাপাশি নৈতিক বাধ্যবাধকতাকেও সমান গুরুত্ব দিয়েছে। ইসলাম মানুষের অধিকার রক্ষার সবচেয়ে বড় ঝাণ্ডাবাহী।


Partner site : online news / celebritiescelebrity image
website design by Web School.
Read more

পশু কোরবানির দর্শন ও মর্মকথা

,


Eid-Al-Adha-01 Mubarak.jpg
কোরবানি আরবি শব্দ, আরবিতে কোরবানুন কুরবুন শব্দ থেকে নির্গত যার অর্থ নৈকট্য, উৎসর্গ, বিসর্জন ও ত্যাগ প্রভৃতি। কোরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত এবং ইসলামের একটি অন্যতম ঐতিহ্য। শরিয়তের পরিভাষায়, আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে জিলহজ মাসের ১০, ১১, ১২ এ তিনটি দিনে আল্লাহর নামে নির্দিষ্ট নিয়মে হালাল পশু জবেহ করাই হলো কোরবানি। ত্যাগ, তিতিক্ষা ও প্রিয়বস্তু আল্লাহর সন'ষ্টির জন্য উৎসর্গ করাই কোরবানির তাৎপর্য। প্রচলিত কোরবানি হজরত ইব্রাহিম আ:-এর অপূর্ব আত্মত্যাগের ঘটনারই স্মৃতিবহ। হাদিসে বর্ণিত আছে : ‘রাসূলুল্লাহ সা:-এর সাহাবিগণ জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! এ কোরবানি কী? তিনি বললেন, এটি তোমাদের পিতা ইব্রাহিম আ:-এর সুন্নত। তাঁরা বললেন, এতে আমাদের কী কল্যাণ নিহিত আছে? তিনি বললেন, এর প্রতিটি পশমের বিনিময়ে একটি করে নেকি রয়েছে। তাঁরা ফের জিজ্ঞাসা করলেন, বকরির পশমেও কি তাই? জবাবে তিনি বললেন, বকরির প্রতিটি পশমের বিনিময়েও একটি করে নেকি আছে।’ মুসলিম জাতির পিতা হজরত ইব্রাহিম আ: থেকে অব্যাহতভাবে চলে আসছে কোরবানির ঐতিহ্য ধারা।
আজ থেকে পাঁচ হাজার বছর আগে হজরত ইব্রাহিম আ: স্বপ্নাদিষ্ট হয়েছিলেন প্রিয়তম বস্তু তথা তার সন্তান ইসমাইলকে কোরবানি করার জন্য। সেই অনুযায়ী তিনি পরম করুণাময় আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য প্রিয় সন্তানকে কোরবানি দিতে উদ্যত হন। কিন্তু মহান আল্লাহর ইচ্ছায় তাঁকে আর শেষ পর্যন্ত সন্তানকে কোরবানি দিতে হয়নি। ইসমাইলের পরিবর্তে কোরবানি হয় একটি পশু। মহান আল্লাহর এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন হজরত ইব্রাহিম আ:। এই সর্বোচ্চ ত্যাগের মহিমাকে তুলে ধরাই ঈদুল আজহার পশু কোরবানির প্রধান মর্মবাণী। কোরবানির মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি হাসিলের পাশাপাশি মানবিক গুণাবলির বিকাশ সাধন, চিন্তার স্বচ্ছতা, ত্যাগের মহিমা, হৃদয়ের উদারতা সব কিছু মিলে কোরবানির এক স্মরণীয় অধ্যায়।
সুস্থ মস্তিষ্ক, প্রাপ্তবয়স্ক, মুকিম (মুসাফির নয় এমন ব্যক্তি) ব্যক্তিই ১০ জিলহজ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সন্ধ্যা পর্যন্ত নিসাব (সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ অথবা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা অথবা সেই পরিমাণ নগদ অর্থ) পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়, তবে তার ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব। কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার জন্য জাকাতের নিসাবের মতো সম্পদের এক বছর অতিবাহিত হওয়া শর্ত নয়। বরং যে অবস্থায় সাদকায়ে ফিতর ওয়াজিব হয় ওই অবস্থায় কোরবানিও ওয়াজিব হবে।
নেক আমলগুলোর মধ্যে কোরবানি একটি বিশেষ আমল। এ কারণেই রাসূলুল্লাহ সা: সব সময় কোরবানি করেছেন এবং সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি বর্জনকারী ব্যক্তির প্রতি তিনি সতর্কবাণী উচ্চারণ করেন। মহানবী সা: বলেন, ‘যে ব্যক্তি-সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি করে না সে যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে।’
কোরবানির এ ফজিলত হাসিল করতে হলে প্রয়োজন ওই আবেগ, অনুভূতি, প্রেম-ভালোবাসা ও ঐকান্তিকতা যা নিয়ে কোরবানি করেছিলেন আল্লাহর খলিল হজরত ইব্রাহিম আ:। কেবল গোশত ও রক্তের নাম কোরবানি নয়, বরং আল্লাহর রাহে নিজের সম্পদের একটি অংশ বিলিয়ে দেয়ার এক দৃপ্ত শপথের নাম কোরবানি। গোশত খাওয়ার নিয়তে কোরবানি করলে তা আল্লাহর কাছে কবুল হবে না। কেননা আল্লাহ তায়ালার কাছে গোশত ও রক্তের কোনো মূল্য নেই। মূল্য আছে কেবল তাকওয়া, পরহেজগারি ও ইখলাসের। আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, আল্লাহর কাছে কখনো জবাইকৃত পশুর গোশত ও রক্ত পৌঁছবে না, পৌঁছবে কেবল তাকওয়া (সূরা হজ : ৩)।
অতএব, আমাদের একান্ত কর্তব্য, খাঁটি নিয়তসহকারে কোরবানি করা এবং তা থেকে শিক্ষার্জন করা। নিজেদের আনন্দে অন্যদের শরিক করা ঈদুল আজহার শিক্ষা। কোরবানিকৃত পশুর গোশত তিন অংশে ভাগ করে এক অংশ নিজের জন্য সংরক্ষণ, দ্বিতীয় অংশ আত্মীয়স্বজনকে প্রদান এবং তৃতীয় অংশ সমাজের অভাবগ্রস্ত ও দরিদ্রদের মধ্যে বিলিয়ে দেয়া ইসলামের বিধান। কোরবানিকৃত পশুর চামড়া অনাথ আশ্রম, এতিমখানা ও মাদরাসার দরিদ্র শিক্ষার্থীদের ভরণপোষণের জন্য প্রদান করলে সওয়াব হাসিল হয়। এক- দুঃখী মানুষের সাহায্য; দ্বিতীয়- দ্বীনি শিক্ষার বিকাশ। প্রকৃতপক্ষে কোরবানিদাতা কেবল পশুর গলায় ছুরি চালায় না বরং সে তো ছুরি চালায় সব প্রবৃত্তির গলায় আল্লাহর প্রেমে পাগলপারা হয়ে। এটিই কোরবানির মূল নিয়ামক ও প্রাণশক্তি। এ অনুভূতি ব্যতিরেকে যে কোরবানি করা হয় তা হজরত ইব্রাহিম ও ইসমাইল আ:-এর সুন্নত নয়, এটি এক রসম তথা প্রথা মাত্র। এতে গোশতের ছড়াছড়ি হয় বটে, কিন্তু ওই তাকওয়া হাসিল হয় না যা কোরবানির প্রাণশক্তি। পশু কোরবানির মাধ্যমে প্রকৃতপক্ষে মানুষের মধ্যে বিরাজমান পশুশক্তি, কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, পরনিন্দা, পরশ্রীকাতরতা প্রভৃতি রিপুগুলোকেই কোরবানি দিতে হয়। আর হালাল অর্থে অর্জিত পশু কোরবানির মাধ্যমে তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটানো হয়। আমরা চাই ব্যক্তি, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে সব অনিশ্চয়তা-শঙ্কা দূর হোক। হিংসা, হানাহানি ও বিদ্বেষ ভুলে গিয়ে কোরবানির আনন্দে শামিল হয়ে সবার মধ্যে সাম্য ও সহমর্মিতার মনোভাব জাগিয়ে তুলতে হবে।

Partner site : online news / celebritiescelebrity image
website design by Web School.
Read more

পাহাড়ে এতো এনজিও টাকা যায় কোথায়?

,

Banana.jpg
পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নের নামে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থা কাজ করলেও পাহাড়ের বাসিন্দাদের জীবনযাত্রায় প্রত্যাশিত পরিবর্তন এখনো আসেনি।
পার্বত্য চট্টগ্রামকে ঘিরে দেশী-বিদেশী বিপুল এনজিও তাদের দাতাগোষ্ঠীর এজেন্ডা বাস্তবায়নে এগিয়ে চলেছে। পাহাড়ের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হয়নি। এ অঞ্চলের প্রতি রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নেরও বিশেষ দৃষ্টি। পুর্ব তিমুর ও দক্ষিণ সুদানের মত একটি পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য তারা তৎপর। ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে চলছে রমরমা মহাজনী ব্যবসা।একথা দিবা লোকের মত স্পষ্ট যে, দাতাগোষ্ঠী বা সাম্রাজ্যবাদী অক্ষশক্তি বিনা স্বার্থে এক পেনিও ব্যয় করে না। কালের কন্ঠের রাঙামাটি প্রতিনিধি ফজলে এলাহী প্রেরিত প্রতিবেদনে এর বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে:
“পার্বত্য চট্টগ্রামে কাজ করছে দেশি-বিদেশি অনেক উন্নয়ন সংস্থা। ১৯৯৭ সালে শান্তিচুক্তির পর এসব দাতা সংস্থা ও এনজিও পাহাড়ে নানা উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ করে। সরকারের পাশাপাশি পার্বত্যবাসীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এসব সংস্থা কাজ করলেও এখানকার সিংহভাগ জনগোষ্ঠী এখনো চরম দারিদ্র্যের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। গত দেড় দশকে পার্বত্য চট্টগ্রামে বেসরকারি খাতে কত টাকার উন্নয়ন কাজ হয়েছে সেই সম্পর্কে সুস্পষ্ট কোন তথ্যও নেই কারো কাছে।
রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের একটি পর্যালোচনা রিপোর্টে দেখা যায়, রাঙামাটিতে ৪৩ স্থানীয়, ১৮ জাতীয় এবং ৬টি আন্তর্জাতিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) কাজ করছে। এদের মধ্যে ২০১০-১১ অর্থবছরে ৩৬টি এনজিওর ৪৯ কোটি ১২ লক্ষ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে খরচ হয়েছে ৩৬ কোটি ৮৮ লক্ষ। সব এনজিও মোট উপকারভোগী দেখিয়েছে ৭ লক্ষ ৬৬ হাজার ৮৬০ জন। এক্ষেত্রে একই ব্যক্তি সুবিধাভোগী হিসেবে একাধিক এনজিওর তালিকায় রয়েছেন। এমন অনেক এলাকা বা গ্রাম এখনো আছে যেখানে এনজিওদের ক্ষুদ্র্ঋণ ছাড়া আর কোন কার্যক্রম পৌঁছেনি।
রাঙামাটি জেলা প্রশাসক সৌরেন্দ্রনাথ চক্রবর্ত্তী এনজিও ও দাতা সংস্থার কাজে হতাশা ব্যক্ত করেছেন। সম্প্রতি জেলা প্রশাসন সম্মেলন কক্ষে এনজিও সমন্বয় সভায় তিনি বলেন, 'এনজিওগুলোর কাজে অস্বচ্ছতা, গরমিল ও অস্পষ্টতা লক্ষ্যণীয়। আবার তারা সরকারের সাথে সমন্বয় করে কাজ করার ব্যাপারেও
অনাগ্রহী। আশা করছি, এনজিওগুলোও তাদের স্বার্থেই আমাদের সহযোগিতা করবে।' এনজিও সংস্থার কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট নয় পাহাড়ের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষও।পার্বত্য চট্টগ্রাম সমঅধিকার আন্দোলন রাঙামাটি জেলা কমিটির সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর কামাল বলেন, 'এসব সংস্থা যদি সকল জাতিগোষ্ঠীর জন্য সমানভাবে কাজ করত তবে পাহাড়ের চেহারাই পাল্টে যেতো। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। তারা নিরপেক্ষভাবে কাজ
করছে না। তাদের কর্মকাণ্ডের কারণে পাহাড়ে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে দূরত্ব বাড়ছে।'
এ বক্তব্যের দ্বিমত পোষণ করে এনজিওসমূহের নেটওয়ার্ক সিএইচটিওন-এর সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব চাকমা বলেন, 'এনজিওরা কাজ করছে বলেই এখানকার মানুষ কিছুটা হলেও সচেতন হচ্ছে, আলোচনা, সমালোচনা করতে পারছে।'
ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) রাঙামাটি জেলা সংগঠক অলকেষ চাকমা বলেন, 'গত ৮ বছরে পাহাড়ে ইউএনডিপির অর্জন একেবারেই শূন্য। সরকার একসময় উন্নয়ন বোর্ড, জেলা পরিষদ, আঞ্চলিক পরিষদের মাধ্যমে যেভাবে একশ্রেণীর লুটেরা তৈরি করেছিল তেমনি পার্বত্য শান্তিচুক্তির পর ইউএনডিপির মাধ্যমে আরেকটি লুটেরা সুবিধাভোগী শ্রেণী তৈরি করছে। ইউএনডিপি পাহাড়ি সমাজে বিভক্তি তৈরি করছে, শ্রেণী বৈষম্য বাড়াচ্ছে।'
এনজিও কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, 'কিছু এনজিও কিছু ভালো প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে কিন্তু সামগ্রিকভাবে আশাবাদী হওয়ার মতো কিছু পাওয়া যাচ্ছে না। এনজিওরা পাড়া বা গ্রামপ্রধানদের সাথে সমন্বয় করে না। এমনকি নিজেদের মধ্যেও সমন্বয় আছে বলে মনে হয় না।' রাঙামাটি সদর উপজেলার সাপছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রমোদ চাকমা বলেন, 'ইউএনডিপির কার্যক্রম আমরা যেভাবে চেয়েছি সেভাবে হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না। সাধারণ মানুষের ভাগ্যের খুব একটা পরিবর্তন আসেনি, প্রকল্প বাস্তবায়নে সমন্বয় এবং পরিকল্পনার অভাব রয়েছে।'
স্থানীয় সাংবাদিক জাগরণ চাকমা বলেন, 'ইউএনডিপির বিভিন্ন প্রকল্পে পাহাড়ে বিশেষ কিছু পরিবার এবং তাদের স্বজনরা ছাড়া সাধারণ মানুষ উপকৃত হয়নি। গত আট বছরে তাদের সফলতার কোন চিত্র দৃশ্যমান নয়। তাদের কারণে পাহাড়ে শ্রেণী বৈষম্য তৈরি হচ্ছে।”
সূত্র : কালের কন্ঠ, ২৭.১০.২০১১

Partner site : online news / celebritiescelebrity image
website design by Web School.
Read more

লেজুড়বৃত্তির ছাত্র রাজনীতি দেশে সন্ত্রাসী ও টেন্ডারবাজ তৈরী করছে

,

Du.jpg
অবশেষে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে ছাত্র রাজনীতির বলি হয়ে অকালে নিভে গেল আরেকটি তাজা প্রাণ। ডেন্টাল তৃতীয় বর্ষের ছাত্র আবিদুর রহমান প্রতিপক্ষের কর্মীদের বেদম পিটুনিতে গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ অক্টোবর তার মৃত্যু হয়। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে ছাত্র সংসদের কার্যক্রম স্থগিত করার পাশাপাশি কলেজ ক্যাম্পাসে সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকান্ড নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জিঘাংসার রাজনীতি আরো কতজনের প্রাণ কেড়ে নেয় কে জানে ?
ছাত্ররাজনীতি আমাদের জন্য আদৌ প্রাসঙ্গিক কিনা এটা তর্ক সাপেক্ষ। অবশ্য কেউ কেউ মনে করেন, ভবিষ্যতের জাতীয় নেতা তৈরির জন্য ছাত্ররাজনীতির প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করা যায় না। কিন্তু পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোর ইতিহাস পর্যালোচনা করলে সহজেই ওই চিন্তার অপ্রাসঙ্গিকতা উপলব্ধি করা সম্ভব। পৃথিবীর বহু প্রথিতযশা রাজনীতিবিদ ছাত্রজীবনে রাজনীতির সাথে বিযুক্ত ছিলেন না। আমাদের দেশের বহু রাজনীতিবিদের ছাত্ররাজনীতির ব্যাকগ্রাউন্ড আছে। ৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, ৭১ এর মুক্তি সংগ্রাম ৯০ এর এরশাদ-বিরোধী আন্দোলনে এ দেশের ছাত্র সমাজের উজ্জ্বল অবদান রয়েছে। তবে তাঁদের অতীতের সে আদর্শবাদী ছাত্ররাজনীতির আদর্শবোধ ও ঐতিহ্য এখন আর অবশিষ্ট নেই। ছাত্রদের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা অবশ্য থাকবে কিন্তু ছাত্ররাজনীতির কলুষ আবর্ত থেকে নিজকে বেরিয়ে আসতে হবে। ছাত্র রাজনীতি এক সময় ছিল শ্রদ্ধা ও সম্মানের প্রতীক, এখন তা হয়েছে বানিজ্যের নিরাপদ আশ্রয়স্থল। ফলে সাধারণ মানুষের কাছে এটা এখন অপ্রয়োজনীয়, নিন্দনীয় ও গর্হিত ।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান ২০০৮ সালের ৯ এপ্রিল চট্টগ্রাম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪র্থ পূণর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে যে কথা বলেছিলেন তা যদি গভীর বিবেচনায় নিয়ে এ বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে পারতাম, তা হলে ক্যাম্পাসে আর রক্ত ঝরতো না। তিনি বলেন, “লেজুড়বৃত্তির ছাত্র রাজনীতির প্রয়োজন আছে কিনা তা পূনর্বিবেচনা করতে হবে। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে অছাত্ররাই ছাত্র রাজনীতির নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। দেশের এই দুর্গতির জন্য লেজুড়বৃত্তির ছাত্র রাজনীতি অনেকটা দায়ী। একজন ছাত্র যখন প্রতিমন্ত্রী হয়ে যায় তখন বুঝতে হবে দেশের কোথাও না কোথাও বিপর্যয় হয়েছে। স্বাধীনতার আগে মেধাবীরা ছাত্র রাজনীতি করেছে। তাদের আন্দোলনের ফসল আমাদের স্বাধীনতা। কিন্তু বর্তমানে ছাত্র রাজনীতির সে পূরনো ঐতিহ্য এখন নেই।”
আমাদের বড় বড় রাজনৈতিক দল তাদের দলীয় স্বার্থে ও ক্ষমতার মোহে ছাত্রদের রাজনীতিতে ব্যবহার করে আসছে দীর্ঘকাল ধরে। ফলে আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় মিনি ক্যান্টনমেন্টে পরিণত হয়েছে। ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বিঘ্নিত; লজ্জাজনক সেশনজট লেগেই আছে; যে কোন মুহূর্তে আপন সন্তান লাশ হয়ে ঘরে ফেরার অজানা আশংকায় অভিভাবকরা প্রহর গুণেন। কত মেধাবী ছাত্র অকালে ঝরে পড়েছে তার হিসাব রাখে কে? ছাত্র রাজনীতি আমাদের যা দিয়েছে, নিয়েছে তার শতগুণ। অভ্যন্তরীণ কোন্দলের শিকার মেধাবী ছাত্র আবু বকরের লাশ পড়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। মৃত্যুর পর তার পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হলে দেখা যায় তিনি প্রথম শ্রেণী লাভ করেন। বেঁচে থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অথবা সরকারী উচ্চপদস্থ অফিসার হতে পারতেন তিনি। অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কথা বাদ দিলেও কেবল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতিতে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ৭৪জন ছাত্র। কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া বাংলাদেশের প্রায় কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় কোন না কোন ছাত্র সংগঠনের দখলে। ভর্তি বানিজ্য, সীট দখল, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস এখন লেজুড়বৃত্তির ছাত্র রাজনীতির স্বাতন্ত্র্যিক বৈশিষ্ট্য। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে একদল আরেক দলের সঙ্গে অথবা একই দলের দু’গ্রুপের মধ্যে যেভাবে সশস্ত্র সংঘর্ষ হয় এবং যে ভাবে প্রকাশ্যে অস্ত্র, দা, চাইনিজ কুড়াল, কাটা রাইফেল, চাপাতি নিয়ে প্রতিপক্ষের উপর হামলে পড়ে, সে দৃশ্য বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে কালিমালিপ্ত করে। চিহ্নিত ক্রিমিনালদের লালন বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ। কারণ প্রতিপক্ষের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে বেশি সংখ্যায় ক্রিমিনালদের সংগঠনে রাখতেই হবে। নিরীহ ছাত্রদের ক্ষমতার স্বার্থে ব্যবহারের দৃষ্টান্ত পৃথিবীর কোন উন্নত দেশেতো নেই, এমনকি প্রতিবেশী দেশ ভারতেও নেই। কংগ্রেস, বিজেপি, ও সি. পি. এম এর মত দলের নেতারা ছাত্রদের রাজনীতির স্বার্থে ব্যবহারকে রীতিমত পাপ ও গর্হিত কাজ মনে করেন।
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স, অষ্ট্রেলিয়া, জাপানসহ পৃথিবীর বহু দেশে কোন সেশনজট নেই। নির্দিষ্ট সময়ে সেমিষ্টার শেষ করা বাধ্যতামুলক। আমাদের দেশের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ তাঁদের ছেলে মেয়েদের বিদেশী কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ান যাতে দুলাল-দুলালীরা নিরাপদে থাকতে পারে। হত দরিদ্র, প্রান্তিক কৃষক, ও মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তানরা দলীয় রাজনীতির বলি, কারণ তাদের পক্ষে বিদেশে গিয়ে পড়া লেখা করা সম্ভব নয়। এক সময় বিশ্ববিদ্যালয় ছিল জ্ঞান চর্চা ও গবেষণার নিরবচ্ছিন্ন কেন্দ্র। তাঁরা মেধাবীরা শিক্ষক হিসেবে যোগ দিতেন ও যোগ দেওয়ার সুযোগ পেতেন। এ ঐতিহ্য এখন আর নেই। এখন সব ধরণের নিয়োগ হয় দলীয় বিবেচনায়। ডীন, ভিসি, প্রো-ভিসি, প্রভোস্ট নিয়োগে শিক্ষকদের ভোটের প্রভাব আছে। তাই শিক্ষক নিয়োগের চাইতে ভোটার নিয়োগের প্রয়াস প্রাধান্য পায়। দল নিরপেক্ষ অথবা প্রতিপক্ষ দলের সাথে সম্পৃক্ত ছাত্র-ছাত্রীকে ফার্ষ্ট ক্লাস না দিয়ে নিজের দলের ক্যান্ডিডেইডকে ফার্ষ্ট ক্লাস দেওয়ার নজীর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভুরি ভুরি। এভাবে ফার্ষ্ট ক্লাস পাওয়া ছাত্ররাই দলীয় ছত্র ছায়ার শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাচ্ছে। এ অবস্থা বেশী দিন চলতে দেয়া যায় না। এ কলংকজনক প্র্যাকটিস বন্ধ করতে হবে। সরকার বা বিরোধীদল ছাত্র-শিক্ষক রাজনীতি বন্ধ করার উদ্যোগ নেবেন কিনা যথেষ্ট সন্দেহ আছে কারণ তাদেরকে দলীয় স্বার্থে ছাত্র-শিক্ষকদের ব্যবহার করতে হবে। ক্ষমতায় আরোহনের সিঁড়ি হচ্ছে তাঁদের কাছে ছাত্র রাজনীতি।
CU.jpgআমাদের সবার মনে রাখা দরকার যে, দেশের ছাত্র জনগোষ্ঠী আমাদের সন্তান, ভাই ও আপনজন। তাদের জীবন নিয়ে আমরা ছিনিমিনি খেলতে পারি না। মানব জীবনের সর্বোৎকৃষ্ট সময় ছাত্রজীবন। জ্ঞানার্জনের নিরবচ্ছিন্ন সাধনা ছাড়া ছাত্রজীবন অর্থহীন। অর্জিত জ্ঞানের আলো নিয়েই তাকে সুখী সমৃদ্ধশালী সমাজ নির্মাণে ভূমিকা রাখতে হবে। একজন ছাত্র ভবিষ্যত জীবনে কি ধরনের ব্যক্তি রূপে সমাজে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করবে তা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে তার প্রস্তুতির উপর। আদর্শ মানুষরূপে গড়ে তোলার সাধনা চলে ছাত্রজীবনে। অধ্যয়ন ও নিয়মানুবর্তিতা ছাত্র জীবনের অন্যতম প্রধান কর্তব্য। রীতিমত অধ্যয়ন, সৎগুণাবলী অর্জন ও কর্তব্যনিষ্ঠা ছাড়া মনুষ্যত্বের পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটে না। তাই আমাদের উচিৎ ছাত্রদের পড়ার টেবিলে ফিরিয়ে নেয়া এবং অধ্যয়নে মনোযোগী করা।


Partner site : online news / celebritiescelebrity image
website design by Web School.
Read more

ইউরোপের মাটিতে সবচেয়ে বড় মসজিদ কমপ্লেক্স

,

dormo_led_3.jpg
মুসলিম দেশে মসজিদ নির্মাণ যতটা সহজ খ্রিস্টান জন অধ্যুষিত কোন দেশে মসজিদ নির্মাণ ততটা কঠিন। গোটা পৃথিবীর ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের তীর্থভূমিতে মসজিদ চিন্তা করতেও গা শিউরে উঠে। রোম খ্রিষ্টান ধর্মাবলীদের সবচেয়ে পবিত্র স্থান। রোমের মধ্যে ভ্যাটিকান সিটি হল মাত্র ১১০ একরের আলাদা একটা দেশ যা পোপ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। তাই রোম বলতে রোমান ক্যাথলিকদের তীর্থ স্থান, ভ্যাটিকান সিটি, পোপ, সেন্ট পিটার ও সান্তা মারিয়া গীর্জা, খ্রিষ্টানদের গৌরব ইত্যাদির কথা মনে করা হয়। সেই রোমেই তৈরি হয়েছে পশ্চিম ইউরোপের সবচেয়ে বড় মসজিদ। ইতালীয় ভাষায় এটা Moschea di Roma নামে সমধিক পরিচিতপ্রায় ৩০ হাজার বর্গমিটার আয়তনের এই মসজিদের বাইরে-ভেতরে ২০ হাজার মুসল্লি একসাথে নামায আদায় করতে পারেন। ১৯৬৯ সালে ২৪ টি মুসলিম দেশ ইতালী সরকারের কাছে রোমে একটি ইসলামিক কালচারাল সেন্টার খোলার আহ্বান জানান, তখন অনুমতি পাওয়া যায়নি। সে সময় রোমে এত মুসলিম ছিল না। বর্তমানে ইতালীতে ১.৫ মিলিয়ন বা প্রায় ১৫ লক্ষ মুসলিম বসবাস করে তাই সময়ের কথা বিবেচনা করে ইতালী সরকার এই মসজিদ নির্মাণের অনুমতি দেয় এবং ইউরোপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও বৃহত্তম মসজিদ এখন রোমে অবস্থিত।
রোম নগরীর উত্তরাঞ্চলের Acqua Acestosa নামক এলাকায় সারিবদ্ধ বৃক্ষের সবুজ বেষ্টনীতে অবস্থিত এ মসজিদ কমপ্লেক্সে রয়েছে প্রশস্ত নামাযের জায়গা, অযু খানা, শৌচাগার, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, মিলনায়তন, পাঠদান কক্ষ, উন্মুক্ত মাঠ, লাশ ধৌতকরণ ও জানাযার ব্যবস্থা। মসজিদ কমপ্লেক্সটি নির্মাণ করতে সময় লেগেছে ১০ বছর। রোমান সিটি কাউন্সিল ১৯৭৪ সালে কমপ্লেক্সের জন্য ভূমি দান করেন। ১৯৯৫ সালের ২১ জানুয়ারী ইতালীয় প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট Sandro Pertini এর উপস্থিতিতে মসজিদ উদ্বোধন করা হয়। কমপ্লেক্সটি নির্মাণের উল্লেখযোগ্য ব্যয়ভার বহন করেন সৌদি আরবের বাদশাহ ফয়সাল ইবন আবদুল আযিয, আফগানিস্তানের প্রিন্স মুহাম্মদ হাসান ও তদীয় স্ত্রী প্রিন্সেস রাযিয়া বেগম। একদা সৌদি আরবের বাদশাহ ফয়সাল ইবন আবদুল আযিয রাস্ট্রীয় সফরে রোম আসলে জামায়াতে নামায আদায়ের জন্য কোন মসজিদ পাননি। রোমে কোন মসজিদ নেই একথা জেনে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। তখন থেকে একটি মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করতে থাকেন।
ইরাকী স্থপতি সামী মুসাভী ও ইতালীয় স্থপতি Paolo Portoghesi কর্তৃক ডিজাইনকৃত নকশা অনুযায়ী মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মাণ চুড়ান্ত হয়। খ্যাতনামা ৪০জন স্থপতির মধ্যে এ দু’জনের লে-আউট শ্রেষ্ঠতার বিচারে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন লাভ করে। মসজিদ স্থাপত্যের অন্যতম অনুষঙ্গ ১২৮ ফুট উঁচু মিনারটিও বেশ দৃষ্টিনন্দন। সেন্ট পিটার্স গীর্জার গম্ভুজের চাইতে এর উচচতা ২ ফুট কম। ইসলামী ঐতিহ্য ও আধুনিক ইউরোপীয় স্থাপত্য শৈলীর সমন্বয় সাধনের একটি আন্তরিক প্রয়াস লক্ষ্যণীয়। অভ্যন্তরীণ স্তম্ভগুলো উত্তর আফ্রিকার (মাগরিব) পাম বৃক্ষের আদলে তৈরী। মসজিদের বাইরে-ভেতরে এমনভাবে আলোক প্রক্ষেপণের ব্যবস্থ করা হয়েছে যে, রাতের বেলা মনে হয় যেন মসজিদের চার পাশে প্রস্রবণের ফল্গুধারা প্রবাহিত।
খ্রিস্টিয় নবম শতাব্দীতে ইসলামের আগমণ ইতালীতে। অস্টম শতাব্দীতে ইতালীর বিভিন্ন দ্বীপ বিশেষত পেন্টেলেরিয়া, সিসিলি, আপুলিয়া, সারদিনিয়ায় মুসলমানদের অভিযানের ফলে ইতালীতে ইসলাম প্রচার সহজতর হয়। ১৫ শতাব্দীতে ভূমধ্যসাগরীয় বিভিন্ন দ্বীপে উসমানীয় তুর্কীদের অভিযানের ফলে বহু মুসলিম পরিবার ইতালীতে বসতি স্থাপন করে। মূলত মরক্কো, তিউনিশিয়া ও মিশর হতে আগত মুসলমানরা রোমসহ ইতালীতে বসবাস করতে থাকে। রাস্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি না দিলেও ক্যাথলিসিজমের পর ইসলাম হচ্ছে ইতালীতে দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্ম।
২০০১সালে সৌদি আরবে নিযুক্ত রোমের রাস্ট্রদূত Torquato Cardilli আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। তিনি দক্ষিণ ইতালীর নেপলস বিশ্ববিদ্যালয় হতে প্রাচ্য ভাষা ও সংস্কৃতি বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন। ইসলাম বিষয়ে তাঁর অধ্যয়ন ছিল ব্যাপক। ৩৩ বছর ধরে আরব বিশ্বের ইরাক, সুদান, লিবিয়া, রিয়াদ, সিরিয়া, আলবেনিয়া ও তাঞ্জানিয়ায় রাস্ট্রদূতের দায়িত্ব পালনকালীণ ইসলামী শিক্ষা ও আদর্শের প্রতি তিনি অনুরক্ত হয়ে পড়েন। এর পুর্বে ১৯৯৪-৯৫ সালে সৌদি আরবে নিযুক্ত Mario Scialoja নামক আরেকজন ইতালীয় রাস্ট্রদূত ইসলাম কবুল করে সরকারী চাকরী পরিত্যাগ করেন। দু’জন দায়িত্বশীল সরকারী কর্মকর্তার ইসলাম গ্রহণের কারণে ইতালীতে ইসলামের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ৫হাজার মানুষ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে কালিমা তাইয়্যেবার ছায়াতলে আসেন।
দ্রষ্টব্য: http://www.amardeshonline.com/pages/details/2011/10/14/111556
সূত্র: The Jakarta Post, 05.09.2011;
Rome's Envoy to Saudi Arabia Converts to Islam by Luke Baker, CNN, November 26 2001 CE
ROME (Reuters);
http://www.arabnews.com/Article.asp?ID=10826; http://www.muslimconverts.com/newmuslims/Romes_Envoy.htm.
Corridor.jpg

মসজিদের অভ্যন্তরীণ করিডোর

Partner site : online news / celebritiescelebrity image
website design by Web School.
Read more

মক্কা রয়েল ক্লক টাওয়ার : পৃথিবীর অন্যতম নান্দনিক স্থাপনা

,

dormo_makka-roye.jpg
পবিত্র কা’বা ঘরের দক্ষিণ প্রবেশপথসংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত মক্কা রয়েল টাওয়ার (আবরাজ আল বায়েত) পৃথিবীর অন্যতম আকর্ষণীয় স্থাপনা। ৭৬ তলাবিশিষ্ট ১,৯৭২ ফুট উচ্চতাসম্পন্ন এ টাওয়ারের একেবারে শীর্ষে গড়ে তোলা হয়েছে ১৩০ ফুট রাজকীয় ঘড়ি যা ১৭ কি.মি. দূর থেকে সময় গণনা করা যায়। চন্দ্র পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র, মুসলিম ঐতিহ্য সংরক্ষণে জাদুঘর এবং হজ ও ওমরাহ পালনকারী পুণ্যার্থীদের জন্য ৩ হাজার অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত কক্ষ এ টাওয়ারের বৈশিষ্ট্য।
সৌদি আরবের খ্যাতনামা নির্মাণ প্রতিষ্ঠান বিন লাদেন গ্রুপ ২০০৪ সালে এ টাওয়ারের নির্মাণ কাজ শুরু করে। ২০১১ সালে এর নির্মাণ শেষ হবে বলে আশা করা যায় এবং সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০১২ সালে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। ফ্লোরের সর্বমোট স্পেস হচ্ছে ১৬,১৫০,০০০ বর্গফুট, যা আরব আমিরাতের দুবাই আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের ৩ নম্বর টার্মিনালের সমান।
৮০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মীয়মাণ এ টাওয়ারে ১০ হাজার মানুষ নামাজ আদায় করতে সক্ষম এমন বিশাল প্রার্থনা হল রয়েছে। টাওয়ারের সেভেন স্টার হোটেল প্রতি বছর পবিত্র হজ ও ওমরাহ পালন উপলক্ষে মক্কা নগরী পরিভ্রমণকারী ৫০ লাখ পুণ্যার্থীর আবাসন সুবিধা প্রদান করবে। আবরাজ আল বায়েত টাওয়ারে প্রথম চার তলা শপিংমল এবং নিচে রয়েছে ১০০০ গাড়ি পার্কিংয়ের সুবিধা। টাওয়ারের একেবারে উপর তলায় দুটি হেলিকপ্টার অবতরণের জন্য রয়েছে প্রশস্ত হেলিপ্যাড।
১ লাখ মানুষের ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন এ টাওয়ারের শীর্ষে চারদিক দিয়ে দেখা যায় এমন একটি ঘড়ি স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি দিকের পরিমাপ হচ্ছে ১৪১১৪১ ফুট। জার্মানির প্রিমিয়ার কম্পোজিট টেকনোলজিস নামক কোম্পানি এর ডিজাইন তৈরি করে। লন্ডনের ওয়েস্ট মিনিস্টার ও ইস্তাম্বুলের কেভাহির মল টাওয়ার ঘড়ির চেয়ে মক্কা টাওয়ার ঘড়ির আয়তন ও নান্দনিকতা বেশি।
ঘড়ির চারপাশ আলোকিত করার জন্য ২০ লাখ LED (Light Emitting diode) বাতি, বিপুলসংখ্যক আল্লাহু আকবর লিখিত ক্যালিওগ্রাফি সংযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ২১ হাজার সাদা ও সবুজ বাতি ঘড়ির উপরাংশে স্থাপন করা হয়েছে, যাতে ৫ ওয়াক্ত নামাজের সময় ফ্ল্যাশ সংকেত দিতে পারে। আকাশের দিকের ১০ কি.মি. পর্যন্ত আলোক রশ্মি প্রক্ষেপণের জন্য ১৬ ধরনের ভার্টিক্যাল বাতি রয়েছে। ঘড়ির চারপাশের সম্মুখ অংশে ১০০ কোটি খণ্ড গ্লাস মোজাইক বসানো হয়েছে। ঘড়ির উপরে রয়েছে ৯৩ মিটার দৈর্ঘ্য অগ্রচূড়া এবং স্বর্ণালি মোজাইক ও ফাইবার গ্লাসের তৈরি ৩৫ টন ওজনের নতুন চাঁদ।
টাওয়ারের নিচ থেকে উপরে বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বহু লাউড স্পিকার স্থাপন করা হয়েছে যা ৭ কি.মি. দূর পর্যন্ত আজান ও নামাজের ধ্বনি প্রচার করতে পারে। রাতের বেলা ২১ হাজার বাতি ৩০ কি.মি. এলাকাকে আলোকোজ্জ্বল করে তুলবে। শ্বেত ও সবুজ বাতির বিশেষ আলো প্রক্ষেপণ দেখে বধির হাজীরা নামাজের সময় নির্ণয় করতে সক্ষম হবেন। মক্কা টাওয়ারে ঘড়ি স্থাপনের পেছনে আরও অনেক কারণ ক্রিয়াশীল। ১২৬ বছরের পুরনো গ্রিনিচমান (GMT) সময় পরিবর্তন করে মক্কার সময় চালু করা যাবে বলে অনেকের ধারণা। ২০০৮ সালে কাতারের রাজধানী দোহাতে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে মুসলিম বিজ্ঞানীরা মত প্রকাশ করেন যে, পৃথিবীর মধ্যম রেখা পবিত্র মক্কার উপর দিয়ে প্রলম্বিত, ফলে মক্কা পৃথিবীর টাইম জোনের কেন্দ্রবিন্দু। এছাড়া মক্কা আন্তর্জাতিক ধর্মীয় ও বাণিজ্য নগরী। ১৮৮৪ সালে পশ্চিমা বিশ্ব গ্রিনিচমান সময় চাপিয়ে দেয়।

Partner site : online news / celebritiescelebrity image
website design by Web School.
Read more

মধ্যযুগে বিজ্ঞান চর্চায় মুসলমানদের বিস্ময়কর অবদান

,
jabir1.jpg
রসায়ন শাস্ত্রের জনক জাবির ইবন হাইয়ান
Cannon.jpg
ইবন সীনা লিখিত ‘কানুন ফিত তিব’ ৩শ বছর ধরে ইউরোপীয় মেডিক্যাল কলেজে পাঠ্যভূক্ত ছিল
‘মধ্যযূগের দু/এক জন ছাড়া মুসলমানদের মাঝে উল্লেখযোগ্য তেমন কোন বিজ্ঞানী নেই।' এমন ধারনা অনেকে পোষণ করে থাকেন। অথচ এ তথ্য যেমন সঠিক নয়, তেমনি ইতিহাস নির্ভরও নয়। মধ্যযুগ (৭ম হতে ১৩ শতাব্দী)পুরোটা মুসলমান বিজ্ঞানীদের যুগ। এ কারণে মধ্যযুগকে বলা হয় ‘স্বর্ণালীযুগ’। জ্ঞান বিজ্ঞানের এমন কোন শাখা নেই যেখানে মধ্য যুগের মুসলমানরা কৃতিত্বের সাক্ষর রাখেনি। বহু ইহুদী-খ্রিষ্টান শিক্ষার্থী জ্ঞান গবেষণার জন্য স্পেনের কর্ডোভা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিড় করত । হ্যাঁ এ কথা সত্য আধুনিককালে বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় মুসলমানদের কোন অবদান নেই। কেন নেই তার উপর রীতিমত গবেষণা প্রয়োজন। আমার মনে হয় বিলাসিতা, বিজ্ঞান চর্চায় অনীহা ও পারস্পরিক কোন্দল মুসলমানদের পিছিয়ে রেখেছে। মধ্যযুগে মুসলমানরা জ্ঞান-বিজ্ঞানের নিয়ামক হলেও ইহুদী ও খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের মধ্যেও অনেকে বিজ্ঞান চর্চা করে খ্যাতি লাভ করেন । যার যা প্রাপ্য তাকে তা দিতে কার্পণ্য করা উচিৎ নয়। বিশিষ্ট ইউরোপীয় গবেষক Paul J. Balles বলেন, মধ্যযুগে মুসলমানরা যখন অবিশ্বাস্যভাবে সভ্যতা বিনির্মাণে বিপুল অবদান রাখে তখন ইউরোপ ছিল অন্ধকারাচ্ছন্ন। জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার প্রতিযোগিতায় গ্রিক ও রোমান সভ্যতার ধারকগণ আরব মুসলমানদের অতিক্রম করতে পারেনি। বরং গ্রিক বিজ্ঞানকে আরবীতে অনুবাদের মাধ্যমে মুসলমানরা যে বিশাল অবদান রেখেছে তার জন্য আধুনিক বিজ্ঞানীরা তাদের কাছে কৃতজ্ঞ । Paul J. Balles বলেন : “Between the 7th and 13th centuries Arab civilization made incredibly large contributions to the future of humankind - no less than any other great civilizations before or after. While the West suffered the Dark Ages, Arab culture and learning flourished in a way previously unprecedented. Neither Greek civilization with its great philosophers nor Roman civilization with its spectacular conquests and temples exceeded the achievements of the Arabs. Had it not been for the Arab libraries, the centuries of Greek, Roman and Byzantine cultures and learning would have been lost to the Dark Ages. One of the Arabs' most valuable contributions was the preservation of Greek learning through the Middle Ages, and it is through their translations that much of what we know today about the Greeks became available.”
(http://www.ummah.com/forum/showthread.php?61918-Arab-And-Muslim-Contributions-To-All-Sciences-And-Progress-Of-Humanity-very-Important.)
বিজ্ঞান চর্চা ও অনুশীলনে মুসলমানদের বিস্ময়কর অবদান সম্পর্কে উইকিপেডিয়ার মন্তব্য প্রণিধানযোগ্য : Science in medieval Islam, also known as Islamic science or Arabic science, is the science developed in the Islamic world during the Islamic Golden Age between the 7th and 15th centuries. During this time, Indian, Iranian and especially Greek knowledge was translated into Arabic. These translations became a wellspring for scientific advances, by scientists from the Islamic civilization, during the Middle Ages.[1]Scientists within the Islamic civilization were of diverse ethnicities. A great portion were Persians[2][3] and Arabs,[3] in addition to Berbers, Moors and Turks. They were also from diverse religious backgrounds. Most were Muslims,[4][5][6] but there were also many Christians and Jews,[7][8] as well as Sabians, Zoroastrians and the irreligious.
(http://en.wikipedia.org/wiki/Science_in_medieval_Islam)
গতকাল (৩০ জুলাই’১১) দৈনিক আমার দেশ-এ মো. বেলায়েত হোসেন লিখিত একটি প্রাসঙ্গিক নিবন্ধের চুম্বক অংশ উদ্ধৃত করা গেল । “বিজ্ঞানের জয়যাত্রার বহু আগেই ইসলাম বিজ্ঞানের মৌলিক নীতিগুলো জগতের সম্মুখে উপস্থাপন করেছে। শুধু তা-ই নয়, ইসলামের আবির্ভাবের পর বিজ্ঞানের উন্নতি ইসলাম ও বিজ্ঞানের মধ্যে একটি কার্যকারণ ও যোগসূত্র সূচিত করে। মুসলমানরা বৈজ্ঞানিক সভ্যতার রূপকার ও রসায়নশাস্ত্রের জন্মদাতা ছিলেন—একথা বললে মোটেও অত্যুক্তি হবে না। জাবির ইবনে হাইয়ান ও আল রাজী ছিলেন রসায়নশাস্ত্রে সে যুগের ’নিউটন’। এক হাজার শতাব্দীতে বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক আল হাজের পদার্থবিজ্ঞানে যা দান করে গেছেন তা আধুনিক বিজ্ঞানেরও পরম সম্পদ। তিনি আলোক বিজ্ঞানের ওপর সাত খণ্ড গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। এই সময়ে মুসলিম বিজ্ঞানীদের গবেষণা দ্বারাই সর্বপ্রথম টেলিস্কোপের কার্যধারা আবিষ্কৃত হয়েছিল। অঙ্কশাস্ত্রে বাইনোমিয়েল তত্ত্ব, নানাবিধ মেরুকরণ ও সমীকরণ এবং আরও বহু বিষয় মুসলিম বিজ্ঞানীদের অসাধারণ সব কীর্তি। চিকিত্সাশাস্ত্রে মুসলমানরা এত উন্নতি সাধন করেছিলেন যে, একসময় গোটা ইউরোপে এই শাস্ত্রের জন্য মুসলিমদের লেখা বইগুলোই একমাত্র পাঠ্য বলে বিবেচিত হতো। সবচেয়ে বড় কথা হলো বিজ্ঞানের ব্যবহারিক দিক অর্থাত্ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পদ্ধতি সর্বপ্রথম মুসলিম বিজ্ঞানীরাই প্রবর্তন করেছিলেন, গ্রিক যুগে এটা কারও জানা ছিল না। মুসলমানদের আর একটি প্রধান কীর্তি হলো অবলুপ্তপ্রায় গ্রিক ও ভারতীয় জ্ঞান-বিজ্ঞানের আহরণ, অনুবাদ ও সংরক্ষণ। তা না হলে অনেক আগেই এ দুই মহাসভ্যতার বহু দানের চিহ্ন পর্যন্ত অবশিষ্ট থাকত না ”(আমার দেশ, ৩০.০৭.২০১১)
আমি নিচে উল্লেখযোগ্য ১৯জন মুসলিম বিজ্ঞানীর নাম ও তাদের আবিস্কারের বিবরণী উপস্থাপন করছি উইকিপেডিয়ার সৌজন্যে :
In medieval Islam, the sciences, which included philosophy, were viewed holistically. The individual scientific disciplines were approached in terms of their relationships to each other and the whole, as if they were branches of a tree. In this regard, the most important scientists of Islamic civilization have been the polymaths, known as hakim or sages. Their role in the transmission of the sciences was central.[20]
The hakim was most often a poet and a writer, skilled in the practice of medicine as well as astronomy and mathematics. These multi-talented sages, the central figures in Islamic science, elaborated and personified the unity of the sciences. They orchestrated scientific development through their insights, and excelled in their explorations as well.[21]
Jabir ibn Hayyan (ca. 8th - 9th century) was an alchemist who used extensive experimentation and produced many works on science and alchemy which have survived to the present day. Jabir described the laboratory techniques and experimental methods of chemistry. He identified many substances including sulfuric and nitric acid. He described processes including sublimation, reduction and distillation. He utilized equipment such as the alembic and the retort. There is considerable uncertainty as to the actual provenance of many works that are ascribed to him.[22][23]
The Banu Musa brothers, Jafar-Muhammad, Ahmad and al-Hasan (ca. early 9th century) were three sons of a colorful astronomer and astrologer. They were scholars close to the court of caliph al-Mamun, and contributed greatly to the translation of ancient works into Arabic. They elaborated the mathematics of cones and ellipses, and performed astronomic calculations. Most notably, they contributed to the field of automation with the creations of automated devices such as the ones described in their Book of Ingenious Devices.[24][25][26]
Ibn Ishaq al-Kindi (801-873) was a philosopher and polymath scientist heavily involved in the translation of Greek classics into Arabic. He worked to reconcile the conflicts between his Islamic faith and his affinity for reason; a conflict that would eventually lead to problems with his rulers. He criticized the basis of alchemy and astrology, and contributed to a wide range of scientific subjects in his writings. He worked on cryptography for the caliphate, and even wrote a piece on the subject of time, space and relative movement.[27]
Hunayn ibn Ishaq (809-873) was one of the most important translators of the ancient Greek works into Arabic. He was also a physician and a writer on medical subjects. His translations interpreted, corrected and extended the ancient works. Some of his translations of medical works were used in Europe for centuries. He also wrote on medical subjects, particularly on the human eye. His book Ten Treatises on the Eye was influential in the West until the 17th century.[28]
Abbas ibn Firnas (810-887) was an Andalusian scientist, musician and inventor. He developed a clear glass used in drinking vessels, and lenses used for magnification and the improvement of vision. He had a room in his house where the sky was simulated, including the motion of planets, stars and weather complete with clouds, thunder and lightning. He is most well know for reportedly surviving an attempt at controlled flight.[29]
Thabit ibn Qurra (835-901) was a Sabian translator and mathematician from Harran, in what is now Turkey. He is known for his translations of Greek mathematics and astronomy, but as was common, he also added his own work to the translations. He is known for having calculated the solution to a chessboard problem involving an exponential series.[30]
al-Khwarizmi (ca. 8th - 9th century) was a Persian mathematician[31], geographer and astronomer. He is regarded as the greatest mathematician of Islamic civilization. He was instrumental in the adoption of the Indian numbering system, later known as Arabic numerals. His developed algebra, which also had Indian antecedents, by introducing methods of simplifying the equations. He used Euclidian geometry in his proofs.[32]
al-Battani (850-922) was an astronomer who accurately determined the length of the solar year. He contributed to numeric tables, such as the Tables of Toledo, used by astronomers to predict the movements of the sun, moon and planets across the sky. Some of Battani's astronomic tables were later used by Copernicus. Battani also developed numeric tables which could be used to find the direction of Mecca from different locations. Knowing the direction of Mecca is important for Muslims, as this is the direction faced during prayer.[33]
Abu Bakr Zakariya al-Razi (ca. 854-925/935) was born in Rayy, Iran. He was a polymath who wrote on a variety of topics, but his most important works were in the field of medicine. He identified smallpox and measles, and recognized fever was part of the body's defenses. He wrote a 23-volume compendium of Chinese, Indian, Persian, Syriac and Greek medicine. al-Razi questioned some aspects of the classical Greek medical theory of how the 4 humors regulate life processes. He challenged Galen's work on several fronts, including the treatment of bloodletting. His trial of bloodletting showed it was effective; a result we now know to be erroneous.[34]
al-Farabi (ca. 870-950) was a rationalist philosopher and mathematician who attempted to describe, geometrically, the repeating patterns popular in Islamic decorative motifs. His book on the subject is titled Spiritual Crafts and Natural Secrets in the Details of Geometrical Figures.[35]
Ibrahim ibn Sina (Avicenna) (908-946) was a physician, astronomer, physicist and mathematician from Bukhara, Uzbekistan. In addition to his master work, The Canon of Medicine, he also made important astronomical observations, and discussed a variety of topics including the different forms energy can take, and the properties of light. He contributed to the development of mathematical techniques such as Casting out nines.[36]
al-Zahrawi (936-1013) was an Andalusian surgeon who is known as the greatest surgeon of medieval Islam. His most important surviving work is referred to as al-Tasrif (Medical Knowledge). It is a 30 volume set discussing medical symptoms, treatments, and mostly pharmacology, but it is the last volume of the set which has attracted the most attention over time. This last volume is a surgical manual describing surgical instruments, supplies and procedures. Scholars studying this manual are discovering references to procedures previously believed to belong to more modern times.[37]
ibn al-Haytham (965-1040) was an Egyptian scientist who worked in several fields, but is now known primarily for his achievements in astronomy and optics. He was an experimentalist who questioned the ancient Greek works of Ptolemy and Galen. At times, al-Haytham suggested Ptolomey's celestial model, and Galen's explanation of vision, had problems. The prevailing opinion of the time, Galen's opinion, was that vision involved transmission of light from the eye, an explanation al-Haytham cast doubt upon. He also studied the effects of light refraction, and suggested the mathematics of reflection and refraction needed to be consistent with the anatomy of the eye.[38]
al-Zarqali (1028-1087) was an Andalusian artisan, skilled in working sheet metal, who became a famous maker of astronomical equipment, an astronomer, and a mathematician. He developed a new design for a highly accurate astrolabe which was used for centuries afterwards. He constructed a famous water clock that attracted much attention in Toledo for centuries. He discovered that the Sun's apogee moves slowly relative to the fixed stars, and obtained a very good estimate[39] for its rate of change.[40]
Omar Khayyam (1048-1131) was a poet and mathematician who calculated the length of the year to within 5 decimal places. He found geometric solutions to all 13 forms of cubic equations. He developed some quadratic equations still in use. He is well known in the West for his poetry (rubaiyat).[41]
al-Idrisi (1100-1166) was an Andalusian traveler, cartographer and geographer famous for a map of the world he created for Roger, the Norman King of Sicily. al-Idrisi also wrote the Book of Roger, a geographic study of the peoples, climates, resources and industries of all the world known at that time. In it, he incidentally relates the tale of a Moroccan ship blown west in the Atlantic, and returning with tales of faraway lands.[42]
ibn al-Nafis (1213-1288) was a physician who was born in Damascus and practiced medicine as head physician at the al-Mansuri hospital in Cairo. He wrote an influential book on medicine, believed to have replaced ibn-Sina's Canon in the Islamic world - if not Europe. He wrote important commentaries on Galen and ibn-Sina's works. One of these commentaries was discovered in 1924, and yielded a description of pulmonary transit, the circulation of blood from the right to left ventricles of the heart through the lungs.[43]
Nasir al-Din al-Tusi (1201-1274) was a Persian astronomer and mathematician whose life was overshadowed by the Mongol invasions of Genghis Khan and his grandson Helagu. al-Tusi wrote an important revision to Ptolemy's celestial model, among other works. When he became Helagu's astrologer, he was furnished with an impressive observatory and gained access to Chinese techniques and observations. He developed trigonometry to the point it became a separate field, and compiled the most accurate astronomical tables available up to that time.[44]

Partner site : online news / celebritiescelebrity image
website design by Web School.
Read more